মোঃ নূর ইসলাম নয়ন (দিনাজপুর২৪.কম) তামাকজনিত রোগ ও অকাল মৃত্যুর কারণে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫’শ ৭০ কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তামাক পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নীতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তামাকের ক্ষতিক্ষর বিষয়গুলো এখন আর কারো অজানা বিষয় নয়। তারপরও মানুষ বিশেষ করে তরুন যুব সমাজ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছে। কারণ তামাক কোম্পানীর গুলোর লোভনীয় প্রলোভন মূলক বিভিন্ন পুরস্কার ঘোষণা, স্বাস্থ্য বিধি ক্ষুদ্র আকারে উল্লেখসহ চটকদার বিজ্ঞাপনে তামাক সেবনে উৎসাহিত হচ্ছে যুব সমাজ।
তামাক কোম্পানীগুলো তরুন যুব সমাজকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ প্রদান, টিশার্ট উপহার, মোবাইল ফোনে চটকদার মেসেজ প্রদান, সিগারেট পান করলে স্মার্ট লাগে ইত্যাদি অসৎ প্রচারণার মাধ্যমে দেশের তরুন যুব সমাজকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। যদিও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করা হচ্ছে নানা দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক হলেও বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে তামাক কোম্পানিগুলো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে একজন অধূমপায়ীর তুলনায় একজন ধূমপায়ীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশী। এ সকল তথ্য জানার পরও তামাক নিয়ন্ত্রনে সরকার কতর্ৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তামাক কোম্পানীগুলো সারা বছরজুড়েই বিভিন্ন কুটকৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বাজেটে তামাকের উপর বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবি। অথচ তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো দাম বাড়িয়ে একে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে আনা। এতে একইসঙ্গে তামাকের ব্যবহার কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ তামাক কর কাঠামোর কারনে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তাই কার্যকর তামাক কর ব্যবস্থার জন্য ‘জাতীয় তামাক কর নীতি’ প্রণয়ন জরুরি।
বহুস্তরভিত্তিক দুর্বল কর কাঠামো এবং তামাকজাত দ্রব্যের ধরণে বিচিত্রতার দরুণ দাম বাড়লে বিকল্প বেছে নেয়ার সুযোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে সময়োপযোগী তামাক কর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবী। মমতা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ঢাকা এর মনোনীত প্রতিনিধি মোঃ ইয়াকুব আলী এর সাথে আলোচনায় জানা যায়, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর তামাকের নীতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাক মুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তামাকের উপর বর্তমান শুল্ক কাঠামো সহজ ও দৃঢ় করার নির্দেশ রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।