(দিনাজপুর২৪.কম) তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের চলমান দ্বন্দ্ব দেশের সব মসজিদে ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ এর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জেএমবি ও হিযবুত তাহরির-এর প্রচারণা বৃদ্ধি এবং পণ্যবাহী পরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের বিদ্যমান দ্বন্দ্ব সমগ্র দেশের মসজিদগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্রে (মারকাজ) ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথম দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর এই প্রতিদ্বন্দ্বী দুপক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। এর সমাধান করতে সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়। তারপরও দুপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ চলমান রয়েছে। ভারতীয় নাগরিক ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভেদকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সর্বশেষ গত সপ্তাহেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা চলছে। মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভেদের সৃষ্টি হয় সর্বশেষ বিশ্ব ইজতেমা থেকে। ওই সময় তাকে টঙ্গীতে ইজতেমায় যেতে দেয়া হয়নি। বিরোধিতার মুখে কাকরাইলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে তার কিছু বক্তব্যের জের ধরে এই বিরোধের সূত্রপাত হলেও নেপথ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ওই সময় মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কাকরাইল মসজিদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। ভারতীয় নাগরিক ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর দেয়া কোনো সিদ্ধান্ত আর এ দেশে বাস্তবায়িত হবে না বলেও তারা ঘোষণা দেন। তখন সাদবিরোধীরা কয়েকদিন ধরে মারকাজ ও এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের জড়ো করতে শুরু করেন। তারা মারকাজ সংলগ্ন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার দুটি কক্ষে মোবাইল ফোন ‘জ্যামার’ও বসিয়েছিল। এতে পুরো মারকাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দেন, দৈনন্দিন পরামর্শ সভা থেকে সাদের সিদ্ধান্ত আর না মানার। দেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১ জন শুরা সদস্য আছেন। এরমধ্যে কাকরাইল মসজিদের খতিব ও পার্শ্ববর্তী উলুম উদ দুনিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম জুবায়ের আহমদের নেতৃত্বে পাঁচজন মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। অন্যদিকে রয়েছেন ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বাকি ছয়জন। এই ১১ জনের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন ছয়জন, যাদের ফয়সাল (সিদ্ধান্তদাতা) বলা হয়। শুরা সদস্যের মধ্যে কারা ফয়সাল হবেন, তা মাওলানা সাদ নির্ধারণ করে দিতেন। ওই সময় সাদ আরও দুজন শুরা সদস্যকে ফয়সাল হিসেবে নিয়োগ দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন জুবায়ের আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ শুরা সদস্য। মারকাজে প্রতিদিন সকালে পরামর্শ সভা বা মাসোয়ারা বসে। এর নেতৃত্বে থাকেন একজন ফয়সাল। প্রতি সাত দিন পরপর এই নেতৃত্ব বদল হয়। প্রথম দফায় সংঘর্ষের মূলেও ছিলেন এই মাওলানা সাদ কান্ধলভী। তবে সামনে চলে আসে দুর্নীতির অভিযোগ। কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ-জামাতের দুই গ্রুপ একে অন্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিলেন। যার চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৪ নভেম্বর।-ডেস্ক