(দিনাজপুর২৪.কম) টসে জিতেই ফিল্ডিং! পিচ রিপোর্টে ধারাভাষ্যকার বললেন, এই উইকেট হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য। এর পরও টসে জিতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বেছে নিলেন ফিল্ডিং। জানিয়ে দিলেন এখানে ২৬০/২৭০ হলেও তাড়া করে জয় সম্ভব। দলের ব্যাটিংয়ের উপরও তার ভরসা ফুটে উঠলো এই কথাতে। প্রথম দুই ওয়ানডেতে টস জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এমনকি দুই টেস্টেও টস জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এবারই প্রথম টস জয় হয়েছিল বাংলাদেশের। ব্যাট করতে নেমে মাশরাফিকে বোকা বানাতে লাগলেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ও অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। যেখানে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের ২৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয়েছিল আর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৮ রানে সেখানে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই তুলেছে ৭৬ রান। আগের দুই ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফি বল হাতে উইকেট এনে দিয়েছিলেন সেখানে তিনিও শুরুতে নিস্ফলা। অবশেষে সফলতা আসে মেহিদী হাসান মিরাজের অফস্পিনে। এরপর তাসকিন দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেটি উপহার দেন দলকে। কিন্তু লঙ্কানদের রানের চাকা চলছিল। ১৯৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও গুনারত্নে ও থিসারা পেরারা ঝড় তুলছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল হয়তে ৩শ’ ছাড়িয়ে থামবে তারা। কিন্তু তাদের থামিয়ে টাইগার অধিনায়ক তা হতে দিলেন না। ৪৪ বলে ৩৪ করা গুনারত্নেকে ফেরানোর পর পর  ৪০ বলে ৫২ রান করা থিসরাকে দেখালেন সাজঘরের পথ। এমনকি সেই ওভারে ১১ বলে ১৫ করা দিলরুয়ান পেরেরাও মাশরাফির শিকার। মাশরাফির জোড়া শিকারে লঙ্কানরা থামলো ২৮০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে। মাশরাফির ৩ উইকেট ৬৫ রান খরচ করে। বলতে গেলে বোলারদের ব্যর্থতার দিনে ৩৪ বছর বয়সেও নিজের সেরাটা দিয়ে মান বাঁচালেন তিনি।
মাশরাফি যখন বল করেন তখন তার শরীরে যে টেপ পেচানো থাকে তা দেখলে অনেককেই ভড়কে যেতে হয়। দেশের হয়ে ১৭২ ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার ইনজুরিকে এ ভাবেই জয় করেছেন। এখন ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক। দেশের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম ২শ’ উইকেট পেয়েছিলেন তারই বন্ধু আবদুর রাজ্জাক। তাকে ছাড়িয়ে সাকিব আল হাসানের উইকেট সংখ্যা ২২১টি। তবে মাশরাফি গতকাল নিজেকে আরো এক থাপ এগিয়ে রাখলেন সাকিবের চেয়ে। তার শিকার এখন ২২৪ উইকেট। এ পর্যন্ত ৪৫টি সিরিজ খেলেছেন মাশরাফি। তার মধ্যে মাত্র ৪ বার ৩ ম্যাচের সিরিজে একটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ২টি সিরিজে। আর বাকি সব গুলোতেই তিনি ৩ এর বেশি উইকেট শিকার করেছেন। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজে বল হাতে তার উইকেট শিকারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬টি।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানরা আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন সিরিজ বাঁচাতে। দুই ওপেনারের মধ্যে গুনাথিলাকা ৩৩ বলে ৩৪ রান, আর ২৭ বলে ৩০ রান করে উপুল থারাঙ্গা দলকে বিপদসীমা পার করার চেষ্টা করছিলেন। সেই মুহূর্তে মিরাজের শিকার হলেন গুনাথিলাকা। শুরুতেই অবশ্য মাশরাফির বলে একবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। এবার অধিনায়ক লড়াই শুরু করলেন মেন্ডিসকে নিয়ে। কিন্তু নিজেই খুব বেশি দূর যেতে পারলেন না। তাসকিন আহমেদের শিকার হলেন ৩৫ রানে। কিন্তু এক পাশ আগলে রাখলেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকানো কুশল মেন্ডিস। তুলে নিলেন ফিফটিও। উইকেটে বোলারদের জন্য খানিকটা সুবিধা ছিল সেটা নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৯২ রানের শক্ত অবস্থান। ওপেনিং জুটির কাছ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগান দিনেশ চান্দিমাল ও মেন্ডিস। একদমই তাড়াহুড়া করেননি তারা। অপেক্ষা করেছেন বাজে বলের জন্য, প্রান্ত বদল করে সচল রেখেছেন রানের চাকা। দুই জনের ব্যাটে বড় জুটির আভাস, তখনই অবাক করা এক রান আউটে ফিরেন চান্দিমাল। তাসকিনের থ্রো পেয়ে মুশফিকুর রহিম স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের ভেতরেই ছিলেন চান্দিমাল। কিন্তু বেলস পড়ার সময় পা ও ব্যাট দুটোই ছিল উঁচুতে। আউট হওয়ার পর বিশ্বাসই হচ্ছিল না লঙ্কান ব্যাটসম্যানের।
এরপর বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন মিলিন্দা শ্রীবর্ধনেও। দুই রান আউটের ধাক্কা সামাল দেয়ার আগেই মেন্ডিসকে হারায় স্বাগতিকরা। ৭ রানেই ফিরতে পারতেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ঠিকমতো থ্রো করতে পারেননি মিরাজ, রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান মেন্ডিস। পরের বলেই সাকিব আল হাসানকে চার হাঁকিয়ে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন। এরপর মোস্তাফিজের তৃতীয় স্পেলের শেষ বলটি থার্ড ম্যানে খেলতে গেলে ব্যাটের কানা লেগে সহজ ক্যাচ মুশফিকের হাতে। ৭৬ বলে ৫৪ রান করার পথে চারটি চার আসে মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। তার বিদায়ের পর রানের গতিতে খানিকটা ভাটা পড়ে। চাপ কমানোর চেষ্টায় মাশরাফিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন আসেলা গুনারত্নে। এরপর সিকুগে প্রসন্ন মোস্তাফিজের স্লোয়ার উড়াতে গিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে। হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলা লঙ্কানদের পথ দেখাতে শুরু করেন থিসারা পেরেরা। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। একটুর জন্য ফিরতি ক্যাচের নাগাল পাননি মোস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভারে মাশরাফির বলে ফিরেছেন তিনি। তিনি ক্রিজে থাকলে হয়তো ৩’শই ছাড়িয়ে যেতে লঙ্কার স্কোর। শেষ ওভারে তার তার তৃতীয় শিকার দিলরুয়ান পেরেরা। এই ম্যাচে পেসারদের মধ্যে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২টি ও তাসকিন একটি উইকেট পেয়েছেন। স্পিনারদের মধ্যে সফল শুধু মিরাজ মাত্র ১টি উইকেট নিয়ে। আর বিশ্ব সেরা স্পিন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এই ম্যাচে ৮ ওভারে ৪১ রান দিয়ে কোন উইকেটই পাননি। -ডেস্ক