ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনে ফলাফল বাতিল ও নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ শুক্রবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং রোববার সারাদেশে জেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল একেকটা সেন্টারের সামনে ২/৩/৪/৫ শ’ করে বাইরের থেকে লোকজন এনে দাঁড় করে রেখেছে, যেই যাচ্ছে তাকে বের করে দেয় মেরে। এখানে নির্বাচনের নরমান যে পদ্ধতি এর কোনো কিছুর সুযোগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বলুন আর যারা দেশ চালাচ্ছে তারা রাখেনি। সবচেয়ে বড় কথা পুলিশ এসব অপকর্মে সহযোগিতা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নানা মিথ্যাচার করবে এই নির্বাচনকে জাস্টিফাই করার জন্য। কিন্তু কোনোভাবে এই নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।’

রাজধানীতে বাস পোড়ানোর ঘটনা সরকারের এজেন্টদের অপকর্ম বলে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুল রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনার নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল।

একই সাথে গতরাত থেকে রাজধানীতে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশি তল্লাশী ও অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কালকে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সাহায্য করে না, ক্ষতিগ্রস্ত করে। সে বিষয়ে আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, একটি টিভি চ্যানেলেও খবর প্রকাশ হয়েছে যে, সরকারি দলের ছাত্রলীগের এক ছেলেকে গতকালের ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে এবং সে বলেছে যে, তাকে পয়সা-টয়সা দিয়ে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের লোকেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই খবরটি প্রকাশ হয়েছে।’

‘একটা পাতানো ও জালিয়াতি নির্বাচন হয়েছে, সেটা থেকে জনগণের দৃষ্টিকে দূরে রাখার জন্য এই বাস পোড়ানোর ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। এটা নিসঃন্দেহে সরকারের একটা পরিকল্পনা। নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ধ্বংস করা এবং দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করারই নমুনা আমরা দেখতে পারছি’, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘গতকাল বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী নিজে এবং তার প্রধান এজেন্ট আবদুস সালাম গেছেন, সেখানে তারা দেখেছেন কেন্দ্রে ভোটারদের কোনো উপস্থিতি ছিলো না। ভোটারদের বের করে দিয়ে তারা সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছে। আমাদের প্রার্থীদের সেন্টারে ঢুকতে দেয়া হয়নি-এটা আমরা মিডিয়াকে দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোনো নির্বাচন হয়নি, এটা একটা তামাশার নির্বাচন হয়েছে। সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যৌথ প্রযোজনায় এই উপনির্বাচন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হয়েছে, তামাশা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছানুযায়ী তাদের প্রার্থীকে জিতানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের যা কিছু করা দরকার তারা সেটাই করে্ছে।’

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সেলিম রেজার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ভোটার কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছে তাকে ফিঙ্গার প্রিন্ট যেটা মেরে নিয়ে বলেছে যে, এবার আপনি চলে যান। অর্থাৎ বাটন চাপ দেবে নৌকা প্রতীকে, সেই ভোট চলে যাবে নৌকায়। এভাবে তারা ভোট ডাকাতি, ভোট ছিনতাই করেছে। এটা এবার নতুন এ স্টাইল চালু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এসব নির্বাচন থেকে আবার নতুন করে প্রমাণিত হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নাই। ওইরকম সরকার ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। আমি আশা করি, আগামীতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ভারপ্রাপ্ত তথ্য বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : নয়াদিগন্ত