(দিনাজপুর২৪.কম)দোকানপাট খোলার পর গতকাল রবিবার থেকে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। যানবাহনও নেমেছে প্রচুর। এখন যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। চেকপোস্টগুলোতেও এখন আর দেখা মিলছে না পুলিশের। ফলে বাধা দেওয়ারও কেউ নেই। ঢাকার প্রবেশ মুখগুলো এখন অনেকটাই উন্মুক্ত। কেন মাঠে পুলিশের দেখা মিলছে না? সাত সদস্যের মৃত্যু আর বিপুলসংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ কী তাহলে শিথিলতা দেখাচ্ছে?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘পুলিশ কোনো শিথিলতা দেখাচ্ছে না। আর মাঠ ছেড়েও চলে যায়নি। এখন আরো বিস্তৃতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। ফলে আগে যেখানে এক জায়গায় অনেক পুলিশ সদস্য দেখা যেত, এখন সেভাবে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু অনেক বেশি জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন সদস্যরা। এখন কৌশল বদলে দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। অনেকগুলো টিম করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিক টিম মাঠে থেকে তদারকি করছেন। পুলিশ সদস্যদের চিকিত্সা ও আবাসনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চিকিত্সার জন্য নতুন হাসপাতাল যুক্ত হচ্ছে। বরং আগের চেয়ে বেশি মনোবল নিয়েই কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা।’

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাত্ করেই বিপুলসংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। যাতে সবাই একসঙ্গে আক্রান্ত না হয়। একটি থানার ওসি বলছিলেন, থানার সদস্যদের তারা তিনটি গ্রুপে ভাগ করেছেন। একটি গ্রুপ থানার ব্যারাকে থাকছে, আরেকটি গ্রুপ হোটেলে এবং অপর গ্রুপটি বাসা থেকে এসে ডিউটি করছে। ফলে একটি গ্রুপের ব্যাকআপ হিসেবে আরো দুটি গ্রুপ থাকছে। সারাদেশে এভাবে নতুন কৌশলে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। প্রসঙ্গত, গতকাল করোনা আক্রান্ত ৭২ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে ১৪৭ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেন।

সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমি তো মনে করি, এখন আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিন্তু রাস্তা-ঘাটে যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমরা উত্সব করছি। কিছু মানুষ প্রয়োজনে বের হচ্ছেন। কিন্তু অপ্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এদের নিবৃত্ত করতে হবে। শিথিলতা দেখানো যাবে না।’

গতকাল রবিবার রাজধানীতে ঢোকার প্রবেশ মুখগুলোতে দেখা গেছে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, অবাধে প্রবেশ ও বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বেশির ভাগ চেকপোস্টে ছিল না পুলিশের উপস্থিতি। এই সুযোগে প্রাইভেটকার, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলে অবাধে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে দেখা যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা। গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরেও ছিল না পুলিশ।

চেকপোস্টে কেন পুলিশ সদস্যদের দেখা যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ কোনো শিথিলতা দেখাচ্ছে না। বাহিনীর সদস্যদের মনোবলও চাঙা আছে। বিপুলসংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় এখন নানা ধরনের কৌশল নিতে হচ্ছে। পৃথক শিফট করা হচ্ছে। যাতে একসঙ্গে সবাই আক্রান্ত না হন। আইজিপি এ ব্যাপারে নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা আক্রান্ত সদস্যদের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছি। তাদের মনোবল চাঙা রাখতে নিয়মিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

বিপুলসংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশের মনোবলে কি চিড় ধরেছে? জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, ‘এত সদস্য আক্রান্ত হলে একটু সতর্ক তো হতেই হবে। তা না হলে পরে দায়িত্ব পালনের লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সংকটময় পরিস্থিতিতে পুলিশকে নানা ধরনের কৌশল নিতে হয়। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বও পালন করতে হবে, আবার সদস্যদেরও নিরাপদে রাখতে হবে। এখন ঊর্ধ্বতনদের দায়িত্বটা বেশি। কোনো সদস্য যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’-ডেস্ক