(দিনাজপুর২৪.কম) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনো অবহিত হইনি। আমরা লিখিত অভিযোগ পাইনি ও সে রকমভাবে অবহিতও হইনি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ কথা বলেন ইসি সচিব। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সারাদেশে এত বড় নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের মধ্যে আনুপাতিক হারে চিন্তা করলে যেসব ঘটনা ঘটছে এগুলো এক শতাংশ বা দুই শতাংশ। আমরা এগুলো অস্বীকার করবো না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কমিশন যথেষ্ট সজাগ আছে। পুলিশকে এ বিষয়ে নির্দেশনাও দেয়া আছে। কোন অভিযোগ পেলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেরকম নির্দেশনা দিয়েছেন।

হেলালুদ্দীন আহমদ আরো জানান, জাতীয় নির্বাচনের সাতদিন আগে সকল সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার পাঠাতে সক্ষম হবে ইসি। এখনো বেশ কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থিতা নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অপেক্ষমাণ থাকায় সেসব আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনগুলোর ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ চলছে। তবে ৩০ ডিসেম্বরের আগেই সব জেলার রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া হবে। নির্বাচনের আগে আটটি বিভাগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা নিয়ে আগামী ১৮ই ডিসেম্বর রাঙামাটিতে একটি সমন্বয় সভা করবে কমিশন। ওইদিন বিকেলে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অন্য বিভাগগুলোতেও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।

রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, ২৫৩৬ জন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাতীয় নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে ৬৫২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ১২২টি তদন্ত কমিটির সদস্য ২৪৪জন যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী জজও মাঠে আছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় চারদিন ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন । এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর সাথে হাজার খানেকের মত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন।

এরা সকলেই মূলত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আলাদা কোন বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান নির্বাচন কমিশন সচিব। বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও সহিংসতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইসি সচিব জানান, যেসব প্রার্থীরা কমিশনে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে প্রত্যেকটি অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি আমলে নিচ্ছি। রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে এসব অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। আদো সত্য নয় এরকম কয়েকটি প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে কমিশন। সেরকম তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। বিনা অপরাধে কাউকে হয়রানি না করতে ও পরোয়ারা ছাড়া গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় কমিশন কড়া ভাষায় নির্দেশনাও দিয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, পেন্ডিং ওয়ারেন্ট এবং আদালতের তাগিদ থাকলে স্বাভাবিকভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থাকে। অনেক দিন এলাকায় না থাকায় পুলিশ হয়তো তাদের খুঁজে পায়নি। নির্বাচন প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে আসায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পাওয়ায় পুলিশ এসব জায়গায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য আলাদা নীতিমালা আছে। তবে, সাংবাদিকদের জন্য লিখিত কোন নীতিমালা নেই। আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা সাংবাদিকদের জন্য একটি নীতিমালা প্রনয়ণে তাগিদ দিয়েছেন। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা একটি গাইডলাইনে তৈরির চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। কমিশনাররা বলেছেন, সাংবাকিরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, ছবি তুলতে পারবেন ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও নিতে পারবেন। তবে কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার না করার বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষন আছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে নির্দেশনা দেয়া হবে।

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও সপুলিশ ইনচার্জের কাছে দুটি মোবাইল থাকবে। এছাড়া অন্যদের কাছে মোবাইল থাকলে ব্যবহারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় কমিশন একটি বিধিনিষেধ দিয়েছে। সাংবাদিকরা মোবাইল নিয়ে যাবেন, তবে কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করলে অসুবিধা নেই। কেন্দ্রের ভেতরে বা বুথের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারে, এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকা দরকার বলে কমিশন মনে করে। এটা একটা পরামর্শ এসেছে,  এটা এখনো আমরা সেভাবে গ্রহণ করিনি। ভয়ের কোন বিষয় নেই।

নির্বাচন যাতে বানচাল না হয়। এবার একটি আলাদা প্রেক্ষাপটে নির্বাচন হচ্ছে, সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এবং একটি রাজনৈতিক সরকার আছে। স¦াভাবিকভাবে সবকিছু বিবেচনা মাথায় রেখেই আমাদের এগুলো চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। এটা প্রস্তাবনা এসেছে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই তাদের কাছে বিষয়গুলো উপস্থাপন করবে। কতটুকু প্রস্তাব গ্রহণ করবে, কতটুকু করবে সেটা নির্বাচন কমিশন

পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। -ডেস্ক