ডা : আশরাফুল হক (দিনাজপুর২৪.কম) কোনও দেশই মশামুক্ত নয়। প্রাগ ঐতিহাসিক আমল থেকেই মশা আছে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু মশা বিলুপ্ত হয়নি। ডেঙ্গু রোগের বাহক যে এডিস মশা তা আমাদের দেশে বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই আছে বলে অনেকেই দাবি করেছেন। অন্য অনেক ভাইরাল জ্বরের মত হওয়ায় হয়ত আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না কখন আমাদের এই মশা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি।

মশা যখন আমাদের শরীরে হুল ফুটায় বা কামড় দেয় তখন সেটি আমাদের চামড়ার নিচে জমা হয়। সেখান থেকে সেটি রক্তের মাধ্যমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পৌঁছায় ধীরে ধীরে। তারপর শুরু হয় নানা লক্ষণ এবং পরিশেষে পরিণতি।

এখন কথা হল, মশা তো কাউকে বাদ দেয় না, তাহলে কেউ বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে কেন?

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের Adaptive এবং Innate Immunity দুইটিই কার্যকরী রাখতে সহযোগিতা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে যখন শরীরে রক্তক্ষরণ হয় তখন রক্তে ভিটামিন ডি এর একটি নির্দিষ্ট উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তার মানে এর বিরুদ্ধে ভিটামিন ডি কার্যকর থাকে। তারা প্রস্তাব করেছে, ডেঙ্গু মৌসুমে স্বল্প মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করার জন্য।

এরপর রয়েছে জিংক। জিংক আমাদের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করার শক্তি তৈরি করে।

ইন্দোনেশিয়ায় এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যেসব রোগী ডেঙ্গুর তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত তাদের শরীরে জিংকের অভাব তীব্র ছিল। তাই জিংক স্বল্প মাত্রায় গ্রহণ করার পক্ষে তারা সমর্থন জানিয়েছে। লক্ষ রাখা দরকার সেটি যেন উচ্চমাত্রায় না হয়।

এর পরপরই রয়েছে ভিটামিন ই। আমরা অনেকেই জানি এটি Antioxidant হিসাবে কাজ করে। এর অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ভারতে এটি নিয়ে কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। ডেঙ্গু যখন হয় তখন অনেকেরই প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। তারা দেখেছে যেসব রোগীকে ভিটামিন ই দেওয়া হয়েছে একটি করে তাদের প্লাটিলেটের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।

মনে রাখা দরকার, সুষম খাবার খেলে এসব মাইক্রো-নিউট্রিয়েনটের অভাব পূরণ হয়ে যায়। তাই খাদ্য তালিকায় দেশী ফলমূল, শাক-সবজি ইত্যাদি রাখা উচিত। আমরা অনেকেই মুখের রুচির কথা ভেবে এসব খাবার পরিমাণ মত গ্রহন করি না। তখনই হয় বিপত্তি।

ডেঙ্গু মৌসুমে আমাদের সবার এসব খেয়াল রাখা উচিত। কারণ ডেঙ্গুর মৌসুম কিন্তু পরিসংখ্যান মতে সামনে আরও কয়েক মাস থাকবে। -ডেস্ক

লেখক: ডা. আশরাফুল হক, মেডিকেল অফিসার, এমআইএস, ডিজিএইচএ