ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ঝিনাইদহে কোরবানির মাংস বিতরণে অনিয়মের বাধা দেওয়ায় মেরে রক্তাক্ত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজার) সাধারণ সম্পাদক এইচএম ইমরান ও তার ছোট ভাইকে। এ হামলার ঘটনায় মামলা করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, ঈদের দিন শনিবার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ী ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য জনগণের কাছ থেকে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করা হয়। মাংস বিতরণ শেষে প্রায় ২০ কেজি মাংস ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুর রহমান একজন সচ্ছল জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রেখে দেন। বিষয়টি নিয়ে ইমরানের বাবা প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

পরে ইমরান ও তার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসাইন এগিয়ে গেলে ইউপি সদস্য আজিজুর তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইমরান, তার বাবা এবং তার ছোট ভাই আকরাম হোসাইন গুরুতর আহত হন। এতে ইমরানের মাথা ফেঁটে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ছোট ভাই আকরাম হোসাইনেরও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে বলে জানা যায়। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

হামলার বিষয়ে ইউপি সদস্য আজিজুর বলেন, ‘আমি হামলা করিনি। এলাকার অনেকই তাদের মারধর করেছে।’ হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটি ভুল বোঝাবুঝি বলে জানান অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্য।

ইমরান হোসেন বলেন, ‘কোরবানির মাংসও লুট করতে হবে? ভাবতে অবাক লাগে। উদ্বৃত্ত মাংস থেকে আধা কেজি করে বাড়িয়ে বিতরণ করলেও প্রায় ৪০টি পরিবার যেখানে ঈদের দিন অন্তত পুষ্টিকর প্রাণীজ আমিষ গ্রহণের তৃপ্তি পেত, যা কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। অথচ মেম্বার তা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে।’

এদিকে, গতকাল রোববার বিকেলে এ হামলার ঘটনায় মহেশপুর থানায় মামলা করেন ইমরান। মামলার আসামিরা হলেন- আজিজুর রহমান ওরফে আবদুল আজিজ, তার ছেলে সাগর হোসেন ও ইউনিয়নের গাড়াপোড়া গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেন।

এ ছাড়া অজ্ঞাত ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর প্রায় ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও কাউকে গ্রপ্তার করতে পারেননি পুলিশ। আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি, থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজার) সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ইমরান ও তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, ডুয়েট সাংবাদিক সমিতি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, টিএসসি ভিক্তিক সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাংলাদেশ জার্নালিজম স্টুডেন্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে। -ডেস্ক