(দিনাজপুর২৪.কম) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্পাদক পরিষদ নেতৃবৃন্দ। ধারাগুলো হলো, ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩।বৃহস্পতিবার (১৯এপ্রিল) সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এ তথ্য জানান। সম্পাদকরা বলেন, আইসিটি আইনে ২১,২৫,২৮,৩১,৩২ ও ৪৩ এই ধারাগুলি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তারা বিদ্যমান এই ধারাগুলি নিয়ে আপত্তি তুলে তা বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানান।এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটর’স কাউন্সিল যে উদ্বেগ জানিয়েছে তার অনেকাংশই যৌক্তিক।
‘আগামী ২২ এপ্রিল (রোববার) অনুষ্ঠেয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে; সেখানে তাদের দাবিগুলোও তুলে ধরবেন তারা।’ সকলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও যুগোপেযাগী আইন প্রণয়ন করা হবে।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, আজকে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে আইন এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সাথে এডিটর’স কাউন্সিলের পূর্বনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেছি। এডিটর’স কাউন্সিল ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কিছু ধারা নিয়ে কনসার্ন (উদ্বেগ) জানিয়েছে। তারা এ আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ নিয়ে কনসার্ন জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এ আইনটি বর্তমানে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে। আগামী ২২ তারিখে এটার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা শেষে আমরা যে সিদ্ধান্তে এসেছি তা হলো, যে আপত্তিগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেগুলোর অনেকাংশই যৌক্তিক মনে করায় আগামী ২২ তারিখে যে সভা হবে সেই সভায় এডিটর’স কাউন্সিলকে আলোচনার জন্য যেন আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেজন্য একটি প্রস্তাব রাখা হবে। ২২ তারিখের পর একটি নির্ধারিত তারিখে যে ধারাগুলো নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে সেগুলো লিখিতভাবে স্থায়ী কমিটিকে দেবেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এটা স্বাধীন সাংবাদিকতা বন্ধ করার জন্য নয়। সেক্ষেত্রে এ আইনের মধ্যে যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে সেগুলো যেন অপসারণ করা যায়, সেজন্য এডিটর’স কাউন্সিলের সঙ্গে স্থায়ী কমিটির আলোচনা হবে। এ আলোচনার প্রেক্ষিতে আমিরা দুই পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি, তাদের যে কনসার্ন সেগুলো আমরা দূর করতে পারব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে টেলিভিশন মিডিয়া কতৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের চিন্তা-ভাবনা আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ আইনকে এমন একটা আইন করতে চাই, যা শুধু গ্রহণযোগ্যই নয়, যুগোপযোগী হবে। সেক্ষেত্রে টেলিভিশন মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে প্রস্তাব করব। সেটা তাদের সিদ্ধানের ওপরই নির্ভর করবে, টেলিভিশন মিডিয়াকে ডাকবে কি না।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এডিটর’স কাউন্সিল আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মাদ শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকদের মধ্যে নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজের নুরুল কবির, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, ইনকিলাবের এ এফ এম বাহাউদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া যুগান্তরের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম, সংবাদের খন্দকার মনিরুজ্জামান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন এবং নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। -ডেস্ক