(দিনাজপুর২৪.কম) ডিঅ্যান্ডডি সাগর, গুলিস্থান নদ, তোপখানা নদী, মাঝখানে শেরাটন খাল পেরিয়ে কাওরান বাজার গাঙের স্রোত ভাসিয়ে নিচ্ছিল সব। আকাশের অনবরত কান্নার দৃশ্য দেখেই বুঝা যাচ্ছিল এমনটা হবে। রাজধানীর সাগর, নদ, নদী, খাল আর বিলগুলো যে ধারণ করতে পারবেনা তা আঁচ করা যাচ্ছিল। গত দুই তিনদিনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এমনটাও ভাবা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। বিপদসীমা অতিক্রম করে নদ নদীগুলো এখন রাক্ষুসে হয়ে উঠেছে। মৌচাক নদীতো হা করে বসে আছে। ওই নদীর মাঝে মাঝে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে বহু লোক আহত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের ঘরে ঘরে হাঁটু পানি। সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস আদালতে যাওয়া লোকজন প্রথমেই ধাক্কা খায়। ঘর থেকে বেরিয়ে তারা দেখতে পান রাস্তায় পানি। শুধু পানি বললে ভুল হবে। কোথাও কোমর পানি, কোথাও বুক সমান পানি। আবার কোথাও হাটু পানি। পানিতে পানিতে সয়লাব গোটা রাজধানী। ডিঅ্যান্ডডি বাধের অভ্যন্তরে বসবাসকারীরা পড়েন মহাবিপদে। যাত্রবাড়ী থেকে শ্যামপুর, ডেমরা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, পাগলা থেকে বন্দর গোটা এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। ডিঅ্যান্ডডি যেন এক সাগরে পরিণত হয়। ওই সাগরের মাঝখানে কোথাও আলিশান ভবন, কোথাও বা টিনের একচালা বাড়ি। কেউই শান্তিতে নেই। ডিঅ্যান্ডডি সাগর তাদের ঘিরে ফেলেছে। ময়লা পানি ঘওে ঢুকেছে। দুতলা, তিনতলা কিংবা তারও উপওে যারা বসবাস করেন তারা হয়ে পড়েন ঘরবন্দি। আর নীচ তলার বাসিন্দারা পানির সঙ্গে নামেন যুদ্ধে। রাস্তা-ঘাট সব পানিতে নিমজ্জিত। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে কেউ কেউ অতি প্রয়োজনে বেরুলেও গুলিস্তান এসে পড়েন এক ঝামেলায়। গুলিস্তান নদীর পানি আর জিরো পয়েন্ট নদীর পানি মিলে মিশে একাকার। গাড়ি চলছে আস্তে আস্তে। কোথাও গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে পেছনে লেগেছে তীব্র যানজট। একটু সামনে এগুতেই দেখা মেলে আবদুল গণি রোড, প্রেসক্লাব আর সচিবালয়ের মাঝের রাস্তা, তোপখানা রোডও আরেক নদী। এ নদী সচিবালয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে। বাস যাত্রীরা হাইকোর্ট এলাকা পেরিয়ে মৎস্য ভবনের সামনে এসে যানজটের মুখোমুখি হন। -ডেস্ক