(দিনাজপুর২৪.কম) শ্রীলঙ্কার রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের খোঁজে শনিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। সরাসরি সম্প্রচার করবে টেন ক্রিকেট।

রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচেই বাজেভাবে হেরেছে। ২০১০ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ হেরেছিল এশিয়ার তিন জায়ান্ট ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। এ মাঠে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ৩৮৫, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিল পাকিস্তান। এছাড়া বড় বড় জয়গুলো এসেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে ২০১০ সালে তিন ম্যাচে বাজে স্মৃতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে।

এবার বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। দুই দলের ক্রিকেটারদের নাম তারই ইঙ্গিত দেয়। শ্রীলঙ্কার ওই দলটিতে খেলা একমাত্র ক্রিকেটার উপল থারাঙ্গা, এক ঝাঁক নতুন ও উদীয়মান ক্রিকেটার এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবেন । এছাড়া অন্য কোনো ক্রিকেটার এ দলে নেই। দলটির ব্যাটসম্যান থিলান সামারাবিরা এখন বাংলাদেশের ব্যাটিং পরামর্শক। এছাড়া মুত্তিয়া মুরালিধরণ, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা অবসরে গেছেন। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও লাসিথ মালিঙ্গা।

অন্যদিকে ওই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে খেলা ছয় ক্রিকেটার এখনও এ দলটিতে রয়েছেন। তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। এক কথায়, সেই সময়ে বাংলাদেশ দলে ছিল অভিজ্ঞতার ঘাটতি, শ্রীলঙ্কার দলে গ্রেটদের আস্তানা। সেখানে আজ গ্রেটদের বিদায়ে অনেকটাই তারকাশূন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। অন্যদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পার করছে সেরা সময়। দুই দলের মূল লড়াই হবে তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলাদেশ দলের একাদশ কেমন হবে তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। তিন পেসার না তিন স্পিনার নিয়ে টিম ম্যানেজম্যান্ট দল সাজায় সেটাই দেখার। উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত আসবে। মাশরাফি ধারণা দিয়েছেন উইকেট ব্যাটিং বান্ধব হবে। সেক্ষেত্রে তিন স্পিনার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। যদি তিন স্পিনার নিয়ে খেলে তাহলে সাকিবের সঙ্গী হবেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও সানজামুল ইসলাম। দুজনই শুক্রবার সবার আগে ব্যাটিং অনুশীলন করেন পরবর্তীতে সেন্ট্রাল উইকেটে হাত ঘুরান বেশ কয়েক ওভার। যদি তিন পেসার নিয়ে খেলে তাহলে মাশরাফি ও মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গী হবেন শুভাশিস রায়। তাসকিন এবং রুবেলকে একাদশের বাইরে থাকতে হবে। এছাড়া মুশফিকুর রহিমকে কিপিংয়ে রেখে দলে থাকবেন তামিম, সৌম্য, সাব্বির, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক, মাশরাফি, ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের একমাত্র ওয়ানডে জয় গত বছরের শেষ ওয়ানডেতে। ৩ উইকেটের জয়ে সিরিজ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশের সামনে বড় কিছু পাওয়ার হাতছানি। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে এবং ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে বাংলাদেশ আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে উঠবে। বাংলাদেশ আপাতত সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি। মাশরাফির মতে প্রথম ম্যাচে ভালো করলে পরবর্তীতে কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে।

শ্রীলঙ্কা দল রয়েছে আত্মবিশ্বাসের তলানিতে। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস নেই। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কুশল পেরেরা। প্রথম ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে পাওয়া যাবে না উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ডিকাভেলাকে। সব মিলিয়ে নিজেদের মাঠে ভঙ্গুর শ্রীলঙ্কা।

অতীতের মন্দস্মৃতির পাশাপাশি পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পক্ষে নেই। দুই দলের ৩৮ মুখোমুখিতে বাংলাদেশের জয় ৪টিতে। হেরেছে ৩৩টি।একটি ম্যাচে ফল আসেনি। শেষ পাঁচ মুখোমুখিতেও বাংলাদেশের জয় নেই একটিও। তবুও আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ। কারণ টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে থেকে দাপটের সঙ্গে বাংলাদেশ যেভাবে ফিরে এসেছে সেখান থেকেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে প্রস্তুতি ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী লড়াই। দুইয়ে মিলিয়ে বাংলাদেশ দল রয়েছে চনমনে ও ফুরফুরে মেজাজে। পরিসংখ্যান ও অতীত স্মৃতি ভুলে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের এখন পূর্ণ মনোযোগ।

বাংলাদেশের বাঘের গর্জন না শ্রীলঙ্কার সিংহের হুংকার শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমিরা। -ডেস্ক