(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র  সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেবলমাত্র যারা প্রথমবর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং এমফিল পর্যায়ে  অধ্যয়নরত আছে তারাই ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ভোটার ও প্রার্থীদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০-এর অধিক হবে না। গতকাল সন্ধ্যায় সভা শেষে সিন্ডিকেটে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান। এ সময় ডাকসু গঠনতন্ত্রে সংশোধিত বিষয়গুলো ও আচরণবিধি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে গঠনতন্ত্রে সংশোধিত বিষয় ও আচরণবিধির অনেক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে যেসব বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে তা হলো- যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সংযুক্ত রয়েছে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখে যাদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০-এর অধিক হবে না কেবল মাত্র তারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদের ভোটার হতে পারবেন; যে সকল শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্ন্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছেন এবং যারা বিভিন্ন আবাসিক হলে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখে যাদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০-এর অধিক হবে না কেবলমাত্র তারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদের ভোটার হতে পারবেন; সকল ভোটারই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন; উপরোক্ত শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য যারা সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্স, প্রোগ্রাম, প্রফেশনাল এক্সিকিউটিভ, স্পেশাল মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, এমএড, পিএইচডি, ডিবিএ, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স অথবা এ ধরনের অন্যান্য কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন তারা ভোটার হতে পারবেন না; ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরা যে কোর্সেই অধ্যয়নরত থাকেন না কেন তারা ভোটার হতে পারবেন না। সরকারি-বেসরকারি অথবা দেশে বা বিদেশে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষার্থী ভোটার হতে পারবেন না; অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী ভোটার হতে পারবেন না; গঠনতন্ত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে; ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সুপারিশ, প্রস্তাব এবং সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে কয়েকটি সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ডাকসু’র সভাপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রস্তাবনার বিষয়টিও সিন্ডিকেট বিবেচনায় নিয়েছে।

সিন্ডিকেটের কার্যাবলী অনুমোদন হওয়ার পর বিষয়টি সমন্ধে বিস্তারিত জানা যাবে বলে রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।

চূড়ান্ত আচরণবিধিতে যা আছে-
লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে শুধুমাত্র সাদাকালো ছবি ব্যবহার করা যাবে; হল সমূহে সিসিটিভি ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনে হল প্রাধ্যক্ষ আরো সিসিটিভি’র ব্যবস্থা করবেন; বিদ্যুৎ সরবরাহ মোবাইল নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্ন রাখা হবে; প্রচারণার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে; সভা-সমাবেশ ও অডিটোরিয়ামে মাইকের সাহায্যে প্রচারণা চালাতে পারবে; কোনো প্রকার স্থাপনা, যানবাহন ও দেয়াল ইত্যাদিতে লিখন বা লিফলেট হ্যান্ডবিল না লাগানোর বিষয়টি সংযোজিত হয়েছে; সভা-সমাবেশের অনুমতি গ্রহণের সময় ৪৮ ঘণ্টা পূর্বের পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা আগে রাখা হয়েছে; গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ সব সময় আছে; ছাত্র সংগঠনগুলোর কোনো প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি করা হবে না; ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি বসানো আছে, প্রয়োজনে আরো বসানো হবে এবং রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়া: ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রশাসন ভোটার ও প্রার্থীর ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিকে আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। সে মোতাবেক আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবো।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর পর যেহেতু ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে সেহেতু শর্ত আরেকটু শিথিল করা যেতে পারতো। তবে এ মুহূর্তে আমরা পুরোটা পর্যালোচনা করা ছাড়া বলতে পারছি না। আরেকটা আমাদের যে অন্যতম বিষয় ছিল অনুষদে ভোটকেন্দ্র স্থাপন সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

তাই হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কা থেকে যায়।’ বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, ‘বয়সসীমা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আমাদের দাবি ছিল ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করার। সে দাবি মানা হয়নি। আমরা কাল থেকে এ দাবিতে আন্দোলনে যাবো।’ ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ্‌ বলেন, ‘আমরা সব বিষয়কে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের দাবি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো গণভোটের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে তার রায় নিশ্চিত করার।’ -ডেস্ক