pu-tamp-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রথম ফোনালাপে অগ্রাধিকার পেয়েছে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। শনিবার বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একটানা ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। এর একটি ছিল পুতিনের সঙ্গে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন বলেছে, উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে একটি শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউজ বলেছে, মেরামতের প্রয়োজন এমন একটি সম্পর্ককে উন্নতির দিকে নিতে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা। ট্রাম্প একই দিন জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
ইংরেজিতে এক বিবৃতিতে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার নেওয়ার পর দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আলোচনা ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক। এ সময় তারা সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, মধ্যপ্রাচ্য, আরব-ইসরাইল সংঘাত, কৌশলগত স্থিতিশীলতা, পরমাণু বিস্তার রোধ, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউক্রেনের পরিস্থিতি আলোচনা করেছেন। রাশিয়া বলেছে, ‘দুই নেতা প্রধান হুমকি তথা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করাকে একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দুই প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পরাজিত করতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সত্যিকারের সমন্বয় স্থাপনের ব্যাপারে কথা বলেছেন।’ তবে রাশিয়ার বর্ণিত আলাপচারিতার বর্ণনায় রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। রাশিয়ান নীতির কড়া সমালোচক ও আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জন ম্যাককেইন ট্রাম্পকে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  তিনি বলেন, আমার আশা শিথিল করার যে গুঞ্জন তা বন্ধ করবেন ও এই বিপজ্জনক পথ প্রত্যাখ্যান করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যথায়, আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞাকে আইনে পরিণত করতে কাজ করবো। আরেক রিপাবলিকান সিনেটর রব পোর্টম্যান বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দুনিয়ার কাছে এক বিপজ্জনক বার্তা যাবে। এই দুনিয়া ইতিমধ্যে আমেরিকার নেতৃত্বের মূল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
প্রসঙ্গত, আসাদ-বিরোধী সব গোষ্ঠীকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। অপরদিকে সাবেক মার্কিন প্রশাসন আসাদবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মধ্যপন্থী কয়েকটিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে।
হোয়াইট হাউজ এ আলাপচারিতা নিয়ে বিস্তারিত বলেনি। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা পরবর্তী কোন তারিখে দুই জনের সরাসরি বৈঠক ঠিক করতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করবেন। দিনের অপর টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। -ডেস্ক