Trump-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) মুসলিম-প্রধান সাতটি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এক মাস বিলম্বিত করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার এ পরিকল্পনায় বাধ সাধেন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা। এ জন্য তিনি তড়িঘড়ি করে ওই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র বিরোধ, বিতর্ক, বিক্ষোভ, নিন্দার পর বুধবার নিজেই তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি এদিন ওয়াশিংটনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য এক মাস সময় দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে পরিকল্পনা উল্টে দেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। তারা যুক্তি তুলে ধরে তাকে বলেছে যে, যদি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে সময় দেয়া হয় তাহলে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদের বন্যা ডাকবে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ ভয়াবহ সব সন্ত্রাসী প্রবেশ করবে যুক্তরাষ্ট্রে। বুধবার মেজর সিটিজ চিফস এসোসিয়েশনের সঙ্গে এক কনফারেন্সে অংশ নেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন আমাকে বললেনÑ ওহ, আপনি এক্ষেত্রে (আগেভাগে) নোটিশ দিতে পারেন না। আমি বলেছিলাম এক মাস সময় দেবো। আমি আরও বলেছিলামÑ এক সপ্তাহ সময় দিলে কেমন হয়? কিন্তু তারা আমাকে বলেছিলেন, আপনি এটা করতে পারেন না। কারণ, কঠোর নির্দেশের আগেই লোকে ভরে যাবে (যুক্তরাষ্ট্র)। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন স্বীকারোক্তিকে বিস্ময়কর বলে আখ্যায়িত করেছে অনলাইন সিএনএন। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২৭শে জানুয়ারি মুসলিম প্রধান সাতটি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর এতদিন তিনি এর স্বপক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তিনি নিজের পদক্ষেপের পক্ষেই যুক্তি তুলে ধরেছেন। এতদিন তিনি বলেন নি যে, এর জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরাই দায়ী। উল্টো যারা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তাদেরকে এক হাত নিয়েছেন তিনি ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তার ওই নির্দেশ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্ট তো তার নিষেধাজ্ঞাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থগিত করেছেন। মঙ্গলবার মিনেসোটা ও ওয়াশিংটন রাজ্যের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলার শুনানি হয় সান ফ্রান্সিসকোতে। সেখানে প্রেসিডেন্টের পক্ষ অবলম্বনকারী আইনজীবীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন তিন সদস্যের ফেডারেল বিচারকের প্যানেল। এ সপ্তাহেই তাদের রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। ওদিকে ওয়াশিংটনের বিচারক জেমস রবার্ট ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ওপর ও বিচার বিভাগের ওপর দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হন। তিনি ওই বিচারককে ‘তথাকথিত’ ( সো কলড) বলে আখ্যায়িত করেন। রোববার তিনি টুইটে বলেন, বিশ্বাস করতে পারছি না যে, একজন বিচারক আমাদের দেশটাকে এমন নরকের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। যদি কোনো কিছু (সন্ত্রাসী কর্মকা-) ঘটে তাহলে তার জন্য তিনি ও বিচার ব্যবস্থা দায়ী হবেন। লোকজন (যুক্তরাষ্ট্রে) প্রবেশ করছে। এটা খুব খারাপ!
এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বনের ঘোষণা দেয়। তবে প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে তিনি বহুল বিতর্কিত ওই নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে এ নিয়ে অনেক সন্দেহ, সংশয় ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হলেও তিনি এ নির্দেশের আগে-পরে কোনো বিষয়, এর পরিণতি নিয়ে জনসমক্ষে কোনো কথা বলেন নি। এমনকি ট্রাম্পের অনেক রাজনৈতিক মিত্রও এ নিয়ে আক্ষেপ করতে থাকেন। তারাই এই নির্দেশের খসড়া প্রণয়ন করেছিলেন। তবে আইন প্রণেতা বা ফেডারেল এজেন্সির কারো সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয় নি বললেই চলে। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়ী করছেন দৃশ্যত তার আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের। -ডেস্ক