(দিনাজপুর২৪.কম) কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদের কিনারায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রোহিঙ্গারা হলেন- টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের আজিজুর রহমানের ছেলে হামিদ (২২), উখিয়ার থাইংখালী ক্যাম্প ১৩-এর নুর মোহাম্মদের ছেলে শামসুল আলম (৩৪) ও একই ক্যাম্পের মুক্তার আহমেদের ছেলে নুরুল আলম (২৩)।

পুলিশের দাবি ঘটনাস্থল থেকে তারা তিনটি দেশীয় এলজি বন্দুক, ৮ রাউন্ড গুলি ও ১১ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

বন্দুকযুদ্ধে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাস। তবে আহতদের নাম ও ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওসির দাবি, নিহতরা অপহরণকারী দলের সদস্য ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। তারা মাদক বেচাকেনার সঙ্গেও জড়িত। কিছু দিন আগে অপহরণকারীরা তিন বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে পুলিশের অভিযানে বেগতিক দেখে অপহরণকারীরা ওই শিশুকে ফেরত দেয়।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ওসি জানান, রাতে পুলিশ জানতে পারেন যে ওই অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে পাহাড়ে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল পাহাড়ে অভিযান চালালে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে। পরে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি প্রদীপ কুমার।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, ভোরে পুলিশ গুলিবদ্ধ তিন রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। -ডেস্ক