(দিনাজপুর২৪.কম) টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচন ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ৩ অক্টোবর। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ অক্টোবর।
সিইসি বলেন, উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে পালন করবেন টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৩ জন।

কাজী রকিবউদ্দীন জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য হয়। সে হিসাবে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সাংবাদিক প্রবেশ কড়াকড়ি

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ সাংবাদিক অবস্থান করতে পারবেন না। তাদের ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় থাকতে হবে। ভোট কক্ষে প্রবেশের আগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। একসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রে ও কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। এক দল সাংবাদিক চলে যাওযার পর আরেক দল সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবেন।

ভোট গ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি

তিনি জানান, ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর ভোটারদের ভোট দানের সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকায় ছুটি থাকবে।

শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন

সিইসি জানান, ভোটকেন্দ্রের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহনী মোতায়েন করা হবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োজিত থাকবে।

তিনি জানান, প্রতিটি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনে অপরাধ বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে, ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্যের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় টাঙ্গাইল-৪ আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন লতিফ। হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে বিতর্কের মধ্যে গতবছর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর পাশাপাশি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

এরপর তার সংসদ সদস্যপদ থাকা নিয়ে জটিলতার নিষ্পত্তিতে শুনানির আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। লতিফ সিদ্দিকীর বিরোধিতায় এ আবেদন আদালতে গড়ালেও তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে ২৩ অগাস্ট ওই শুনানিতে গিয়ে নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে জানান লতিফ সিদ্দিকী।

গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদ বসলে সেখানে আবেগময় এক বক্তৃতা দিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সাবেক এ মন্ত্রী। এর দুই দিনের মাথায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন। – ডেস্ক