(দিনাজপুর২৪.কম)  টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে ৩জন নিহত ও ৫০জন আহত হয়েছে।  শুক্রবার বিকেলে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ  বাধা দিলে এলাকাবাসী-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে  মারাত্মক আহত দেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায়  তারা মারা যান।  নিহতরা হলেন , কালিহাতী উপজেলার কুষ্টিয়া গ্রামের সামু শেখের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৫), ঘাটাইল উপজেলার কালিয়া গ্রামের আলহাজ মিয়ার ছেলে কবির মিয়া (৩২) এবং  অজ্ঞাত (২৮) এক যুবক। এদের মধ্যে শামীম টাঙ্গাইল মেডিক্যালে ও ফারুক হোসেন কালিহাতী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মারা যান। আহতদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ, মির্জাপুর কুমুদিনী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায়  থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিকের মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার সড়ক অবরোধ করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
তারই জের ধরে আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এলাকাবাসী কালীহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ দেখায়। পরে তারা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ অবরোধ ওঠাতে গেলে অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। একই সাথে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।  সে সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে এক পুলিশ সদস্য লান্ছিত  হয় বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অবরোধকারীদের ধাওয়া দেয়। সে সময় পুলিশ অবরোধকারীদের হঠাতে লাঠিপেটা, ৬০ রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও  টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে এক নারীসহ ছয় ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আরো প্রায় ৫০ জন আহত হন। এদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলাকাবাসীর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রাস্তায় আগুন জ্বালানো এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কালীহাতী উপজেলা সদরের সাতুটিয়া এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমার স্ত্রী হোসনে আরার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার শ্রমজীবী আলামিনের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর আবারো আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা।

এদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমা ও তাদের পরিবারের লোকেরা আলোচনার কথা বলে আলামিন, তার মা ও হোসনে আরাকে রোমাদের বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরে বাড়ির উঠানে আলামিনকে বিবস্ত্র করেন রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ। এ সময় আলামিনের মাকেও বিবস্ত্র করা হয়। মারধরের পাশাপাশি আলামিনের মাকে ঘরে নিয়ে রোমা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।  কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। -ডেস্ক