(দিনাজপুর২৪.কম) এবার নেপালে ব্যাংক খুলেছেন শেয়ার কেলেঙ্কারির অন্যতম খলনায়ক লুৎফর রহমান বাদল। ‘নেপাল বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড (এনবিবিএল) নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদও বাদলের। শুধু তাই নয়, বিদেশে অবস্থান করলেও থেমে নেই তার টাকা পাচার। অভিনব কৌশল হিসেবে ‘ফুড চেইন’ নামের খাবারের প্রতিষ্ঠান খুলেছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে। বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে গত মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাদলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আমিরুজ্জামানকে গ্রেফতারও করে। পরবর্তীতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আমিরুজ্জামান আর এল গ্রুপের ‘নুরানী হিমাগার’ এবং ‘ফুড চেইন’-এর সিইও (চিফ অপারেশন অফিসার)। এদিকে ‘THE BANK FOR EVERYONE’  স্লোগানে এনবিবিএল নামের ব্যাংকটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে সাতজনের পরিচালনা পর্যদ। পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে লুৎফর রহমান বাদলের ছবিও ঝুলছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কামলাদি এলাকায়।  নেপালের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এনবিবিএল-এর ৩২টি ব্রাঞ্চ। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন- শাহ আলম সারওয়ার, অরিজিত চৌধুরী, দীপক কারকি, মাধব প্রাসাদ নিউপেন, মুকুন্দ নাথ ডাঙ্গে, অরুণ শ্রেষ্ঠ। ব্যাংকিং কার্যক্রমে বাদলের পুরো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন মনিরুল আলম। তিনিও ওই ব্যাংকের একজন পরিচালক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত লুৎফর রহমান বাদলের প্রতিষ্ঠান এল আর গ্লোবাল শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০১০ সালেও এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছেন। টাকা পাচার করতে অভিনব পন্থা ও আবিষ্কার করেছেন তিনি। বহুজাতিক ফুড চেইন এশিয়া লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান খুলেছেন দেশে এবং বিদেশে। ভারত-নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায়ও রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুদ্রা পাচারের কৌশল হিসেবে ফ্রেড জুসটেন নামে এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ঢাকার বনানীতে দুটি আউটলেট রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানে সব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। একই সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানি হওয়ায় এর মুনাফার বড় অংশ বিদেশ চলে যায়। স্বাভাবিক মুনাফার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ পাচার করা হয় এই প্রতিষ্ঠানের নামে। বিষয়টি খোঁজ পেয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) এ সাধারণ ডায়েরি করে (জিডি নম্বর-৯৯৯, তারিখ-২৪/০৩/২০১৫) আটক করে আমিরুজ্জামানকে। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালত থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে বাদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো বিষয় অবহিত করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এল আর গ্রুপের মালিক লুৎফর রহমান বাদল প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ গ্রহণ করে যথাযথ প্রকল্পে খরচ না করে তা ভিন্ন খাতে ব্যবহার করেছেন। এমনকি তিনি এ টাকা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছেন বলে তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। ডিবি পুলিশ মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদককে অবহিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিয়েই লুৎফর রহমান বাদল ফুড চেইন এশিয়ার লেনদেন করছেন। তবে এ লেনদেনের কোনো হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছেও নেই- কী পরিমাণ পণ্য দেশে আসছে, আর তার বিপরীতে কী পরিমাণ মুনাফা দেশের বাইরে যাচ্ছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে যেসব কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই বিদেশের নাগরিক। কাগজে কলমে এক রকম বেতন-কাঠামো নির্ধারণ করে বাস্তবে দিচ্ছেন আরও কম। এদের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা পাচার করছেন। ধারণা করা হচ্ছে এই পাচার করা অর্থ দিয়েই লন্ডনে বিলাসবহুল জীবন-যাপনসহ নেপালে ব্যাংক বানিয়েছেন। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত নেপাল বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন শীর্ষ বিনিয়োগকারী লুৎফর রহমান বাদল। তিনিই বর্তমানে ব্যাংকটির পর্ষদ চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. ওবায়দুল হক দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, এল আর গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্তে মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা ঋণ নিয়ে তা ভিন্ন খাতে ব্যবহার করার প্রমাণ পেয়েছি। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুপারিশ করে প্রতিবেদন দিয়েছি। কারণ বিষয়টি আর্থিক অপরাধমূলক।(ডেস্ক)