স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুরে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাক তালীয় ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে বিএনপিকে নিয়ে। বর্তমানে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির দিনাজপুর সদর-৩ আসনটি প্রতীক শূণ্য অবস্থায় রয়েছে। ভোটাররাও পড়েছেন হতাশায়। তাহলে কি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক বিজয় লাভ করবে? এ রকম নানা গুঞ্জন চলছে বিভিন্ন মহলে। শেষ পর্যন্ত কি বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম কিংবা এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল কেউ কি প্রার্থীতা ফিরে পাবেন ? বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর শহর এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
সূত্র মতে, দিনাজপুর-৩ সদর আসনে এখন ঐক্য ফ্রন্ট বিএনপি’র ধানের শীর্ষ প্রতীক শূণ্য রয়েছে। এ নিয়ে চরম হতাশা ও উদ্বেগ-উৎকন্ঠ মধ্যে রয়েছে ধানের শীর্ষ প্রতীকের ভেটার,সমর্থিত ও নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার হাইকোর্টের এক রায়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতি। বর্তমানে প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আপিলের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালও হাইকোর্টের আপিলের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন দিনাজপুর-৩ সদর আসনে তার ধানের শীর্ষ প্রতীক ফিরে পেতে।
দিনাজপুর পৌর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ না করে দিনাজপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়রপত্র দাখিল করেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। ইসি ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরে রিট করলে ৯ ডিসেম্বর বিকেলে হাইকোর্ট মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ধানের শীর্ষ প্রতীকে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। তিনি নির্বাচনী প্রচারণাও করেন। কিন্তু ৯ ডিসেম্বর বিকেলে হাইকোর্ট সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র হাই কমান্ড সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। এতে বাতিল হয়ে যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল মনোনয়নপত্র। মনোনয়ন বঞ্চিত দুলাল কিছুটা হতাশ হয়ে পরলেও পরে তিনি দলীয় প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে থাকে। কিন্তু পৌর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ না করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় হঠাৎ ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। এতে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থীরা বাতিল হয়ে যায়।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, আরো বেশ কয়েকজন পৌর মেয়র স্বপদে বহাল থেকেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিন্তু তিনি কেনো পারবেন না তা প্রশ্ন রেখেছেন দেশবাসী’র কাছে। এ কারণে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালও হাইকোর্টের আপিলের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন দিনাজপুর-৩ সদর আসনে তার ধানের শীর্ষ প্রতীক ফিরে পেতে। সবশেষ ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন। আসলে কি হবে দিনাজপুর জেলা বিএনপি প্রার্থীর?