(দিনাজপুর২৪.কম) পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযানে যেকোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। একজন জনপ্রতিনিধির প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারী মানুষদের সরিয়ে নেওয়া। আপনারা এটাকে বলেন উচ্ছেদ, কিন্তু আমি বলবো উদ্ধার। উদ্ধারের জন্য প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগ করেও তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাসে বাটালিহিল পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হচ্ছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের তৎপরতা সহ্য করা হবে না। মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ধসে যারা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকবে কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমরা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে রি-অ্যাকটিভ ভূমিকা পালন করছি। বাট আওয়ার রোল স্যুড বি প্রে-অ্যাকটিভ।
সেতুমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের দুর্যোগ যে আগামী বছর হবে না তা আমরা হলফ করে বলতে পারি না। এ দুর্যোগের জন্য আমি দায়ী করবো অপরিকল্পিত বসতি ও আমাদের মানসিকতা। গরিব মানুষ জানমালের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বসতি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে চায় না। আমাদের উচিত যেতে না চাইলেও তাদেরকে জোর করে হলেও নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া যারা উদ্ধার হয়েছে তাদেরকে বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রাঙামাটিতে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণ হিসেবে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাঙামাটিতে প্রতিরোধমূলক দেয়াল বা রিটেইনিং ওয়াল ছিল না।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো শুধুমাত্র শহরে নয় গ্রামেও রয়েছে। এখনও যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে সেগুলো অবিলম্বের সরাতে হবে।

পাহাড় ধসের ঘটনা পরিদর্শনে এসে বুধবার মন্ত্রী রাঙামাটি ও বান্দরবান গেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি চট্টগ্রামে পাহাড়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। লালখান বাজার এলাকা থেকে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যান ঝড়ে ল-ভ- ফইল্যাতলি বাজার এলাকা পরিদর্শনে।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাংসদ আফসারুল আমীন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এফ কবির আহমদ মানিক মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। -ডেস্ক