(দিনাজপুর২৪.কম) ঝিনাইদহে দুটি পৃথক হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন পৃথক আদালত। রবিবার আদালত স্ত্রী নাজমাকে হত্যার দায়ে সদর উপজেলার নগরবাথান ঘোষপাড়ার ছবেদ মন্ডলের ছেলে আহম্মেদ মন্ডলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জেলা জজ মো. আবু আহছান হাবিব এ রায় দেন।

অপর মামলায় হরিণাকুন্ডু উপজেলার নারায়নকান্দি গ্রামের আলি আহম্মেদকে হত্যার দায়ে অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো: গোলাম আযম নারায়নকান্দি গ্রামের হেরাজ মালিথার ছেলে আসমান মালিথাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে দুইজন বিচারক পৃথক পৃথক রায়ে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি এডভোকেট ইসমাইল হোসেন জানান, ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সদর উপর জেলার নগরবাথান গ্রামের নাজমা বেগমকে আনা হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার গলায় দাগ ছিল। পুলিশকে হাসপাতাল থেকে খবর দেওয়া হয়। পুুলিশ বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করে। পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ১২ আগস্ট সকালের মধ্যে কোন এক সময় হত্যা করা হয়।পোস্টমর্টেম রিপোর্টে নাজমাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর নিয়মিত হত্যা মামলা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামি আহম্মেদ মন্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখেল করে। সাক্ষ্য প্রমাণে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পিপি আরো জানান, ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নুর আলি মন্ডলের ছেলে আহাম্মদ আলি ক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নূর আলী মন্ডল খবর পান ১২/১৩ জন লোক তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। পরদিন সকালে পলতাডাঙ্গা গ্রামের মাঠে আহাম্মদ আলিকে গুলিবিদ্ধ ও কুপিয়ে জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে হরিণাকুন্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে তিনি মারা যান।এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ড থানায় মামলা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ৩ জনের নামে চার্জশিট প্রদান করে। বিচারে দোষি প্রমানিত হওয়ায় বিচারক মো: গোলাম আযম আসামি আসমান মালিথাকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।-ডেস্ক