1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. erwinhigh@hidebox.org : adriannenaumann :
  3. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  4. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  5. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  6. rosettaogren3451@dvd.dns-cloud.net : darrinsmalley71 :
  7. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  8. emmie@a.get-bitcoins.online : earnestinemachad :
  9. vandagullettezqsl@yahoo.com : gastonsugerman9 :
  10. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  11. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  12. corinehockensmith409@gay.theworkpc.com : meaganfeldman5 :
  13. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  14. news@dinajpur24.com : nalam :
  15. marianne@e.linklist.club : noblestepp6504 :
  16. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  17. armandowray@freundin.ru : normamedlock :
  18. rubyfdb1f@mail.ru : paulinajarman2 :
  19. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  20. Roosevelt_Fontenot@speaker.buypbn.com : rooseveltfonteno :
  21. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  22. gorizontowrostislaw@mail.ru : spencer0759 :
  23. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
নতুন রুপে আসছে দিনাজপুর২৪.কম! ২০১০ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের পুরনো নিউজ পোর্টালটির জন্য দেশব্যাপী সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা প্রয়োজন। সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা এখনই প্রয়োজনীয় জীবন বৃত্তান্ত সহ সিভি dinajpur24@gmail.com এ ইমেইলে পাঠান।

ইউপি নির্বাচন : ঝরলো আরো ১০ প্রাণ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬
  • ০ বার পঠিত

(দিনাজপুর২৪.কম) এ যেন প্রাণঘাতি ভোট। এবার কেড়ে নিলো ১০ প্রাণ। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে গতকাল গুলি, সংঘর্ষ ও সহিংসতায় নিহত হন তারা। এরমধ্যে কুমিল্লার তিতাসে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে। গত চার ধাপের নির্বাচনের সহিংসতাকে পেছনে ফেলে পঞ্চম ধাপে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪ জন। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিহত হয়েছেন ২ জন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিহত হয়েছেন ইউপি সদস্য প্রার্থীসহ ২ জন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও-এ দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১ জন। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন শতাধিক প্রার্থী। আর সহিংসতায় কমপক্ষে ৭০ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার তিতাসে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে উত্তর বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিনকে কুপিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করে। নিহতের বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক জানান, বিএনপির প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মদ তপন ভূঁইয়া, মতিন ও সালাউদ্দিন সরকার পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহতের চাচাতো ভাই আবু বক্কর বলেন, কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা বিভিন্ন লোকজন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। তিতাস থানার ওসি (তদন্ত) আ.স.ম আবদুন নূর বলেন, এটি নির্বাচনী সহিংসতা। তপন ও কামাল  চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে বলরামপুর গ্রামে সংঘর্ষ হয়। এসময় কামাল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুটারচর ইবতেদায়ী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে ২ জন ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাকিরুজ্জামান রাখালের গুলিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্ট সহ ২ জন নিহত হয়েছেন।  নিহতরা হলেনÑ কুতুবেরচর গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬), নবীরুল (১৯), শেখপাড়া গ্রামের আব্দুল মাজেদ, নুর ইসলাম (৫৫)। সকাল ১১টায় বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুটারচর ইবতেদায়ী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাকিরুজ্জামান রাখাল কেন্দ্রে এসে জোর করে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাজাহান আলীর এজেন্ট জিয়াউর রহমান বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাখাল তার পকেটে থাকা পিস্তল বের করে সরাসরি গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়াউর রহমান মারা যায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর করা হয় পুরো কেন্দ্র। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই আব্দুল হান্নান ও পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম গুরুতর আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় প্রায় অর্ধশতাধিক ভোটার। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বকশীগঞ্জ সদর হাসপাতালে শেখপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম মারা যান। এছাড়া, আব্দুল মাজেদ ও নবীরুল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ময়মনসিংহ নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে জামালপুর পুলিশ সুপার (এসপি) নিজাম উদ্দিন তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পটিয়া প্রতিনিধি জানান, পটিয়ায় সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ কর্ণফুলী থানার বড় ওঠান ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. ইয়াছিন (৪১) ও আশিয়া ইউনিয়নের মেম্বার সমর্থক বাবুল শীল (৫৭)। এছাড়া, হাবিলাস দ্বীপ ইউনিয়নে আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী  ফৌজুল কবির কুমারের গাড়ি থেকে ২টি এলজি  ও ৬ রাউন্ড গুলি এবং ১৩টি স্টিলের বার উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় প্রার্থীকে বহনকারী একটি মাইক্রোবাস চট্ট মেট্রো-চ, ১১-৩৩৪৫ আটক করা হয়। কর্ণফুলী চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী ছাবের আহমদকে ব্যালটে সিল মারার সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। বেলা দেড়টার সময় বড়ওঠান ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে শাহমিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দিদারুল আলমের নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মান্নানের আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মেম্বার প্রার্থী মো. ইয়াছিন (টিউব ওয়েল) হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮/১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। আশিয়া ইউনিয়নে  বেলা ১২টায় ২ নং ওয়ার্ড আসদ আলী মাজার ভোটকেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বাবুল শীল (৫৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ’লীগের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ সকাল ১০টায় কেন্দ্রে ঢুকে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারার সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ব্যালট পেপারসহ আটক করে। এসময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তার ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে বিজিবি’র সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে উদ্ধার করে কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যায় এবং ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে জানান, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বেগমগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আসার খবরে পালানোর সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, গোলযোগ ও অনিয়মের কারণে ৪১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি সাজিদুর রহমান সাজেদ জানান, রাজগঞ্জ ইউনিয়নের দারুল উলূম ফাজিল সিনিয়র মাদরাসা কেন্দ্রের সামনে র‌্যাবের ধাওয়া খেয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথা ফেটে সৈয়দ আহম্মদ নামে (৬০) এক ব্যক্তি মারা যান। দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে সন্ত্রাসীরা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সকাল ১১টায় বেগমগঞ্জের একলাশপুর বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে চৌমুহনী-মাইজদী সড়কে দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে বেগমগঞ্জের জিরতøী ইউনিয়নের কেবি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম শাকিল আহমেদ (১৮)। এ সময় আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, আড়াইহাজারে বিভিন্ন স্থানে মেম্বার  প্রার্থী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। ব্যালেট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এলাকাবাসী জানান, খাগকান্দা ইউনিয়নের শম্ভুপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে ওই কেন্দ্রের মেম্বার প্রার্থী জাকির (তালা) ও মোতালিব (মুরগি) প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের শালমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী আলম ও আলাউদ্দিনের লোকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হাইজাদী ৭নং ওয়ার্ডের সিংহদী মাদরাসা কেন্দ্রে ২ মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিশনন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে দয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জসিম উদ্দিনের ফুটবল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোরগ প্রতীকে আলী আক্কাশের সঙ্গে বাকবিত-া একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আলী আক্কাশ, শাহজালাল, শওকত, ইয়ানুসসহ ৭ জন আহত হয়।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে প্রভাব বিস্তার, বিচ্ছিন্ন কিছু বোমাবাজির ঘটনা ঘটিয়েছে। নরসিংদীর এসি ল্যান্ড মাসুদ কামাল পাঁচদোনার পাটুয়া কেন্দ্র থেকে ৫টি ককটেলসহ মনির হোসেনসহ ৩ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে। কেন্দ্র দখল ও সিল মারার কারণে আমদিয়া ইউনয়িনে বিএনপি প্রার্থী আবু সিদ্দিক মিয়া, পাঁচদোনা ইউনিয়নে লাল মিয়া, নজরপুর ইউনিয়নে জালালউদ্দিন সরকার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে ৭টি ভোটকেন্দ্রে। বোমা বিস্ফোরণের আতঙ্কে হাজীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু পরে আবার চালু করা হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে পাইকারচর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল কাদির বোমা হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছে। চিনিশপুর ইউনিয়নের পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে অলি মেম্বার নামে একজন মেম্বার পদপ্রার্থীকে কয়েক ঘণ্টা আটক করে রাখে মামুন নামে অপর একজন সরকারি দলের মেম্বার পদপ্রার্থী। এসময় তারা অলি মেম্বারের ১৫ সমর্থককে কুপিয়ে আহত করে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফপুর, অজিফা, হাজিরপাড়া ও মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রসহ ১২টি ইউনিয়নে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন, জালভোট ও কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যেই নৌকা মার্কায় সিল মারার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এ সময় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ৫০ জন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফপুর, হাজিরপাড়া ও অজিফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দিঘলী ইউনিয়নের সাঙ্গীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দিঘলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। এদিকে কেন্দ্র দখল, জালভোট, এজেন্টদের মারধর করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চন্দ্রগঞ্জ, দত্তপাড়া, হাজিরপাড়া, চরশাহী, কুশাখালী ও ভবানীগঞ্জসহ বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, বেলাল হোসেন, মাছুম উদ্দিন তুহিন, স্বপন, আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। অপরদিকে জালভোট দেয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় দুটি উপজেলায় ভোটগ্রহণের পর বেলা ১০টার থেকে ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে একাধিক কেন্দ্রে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জে কামারদহ ইউনিয়নের তারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জের শালমারা ইউনিয়নের জীবনগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আশপাশে সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সংঘর্ষ হয়। এতে নিরাপত্তা জনিতকারণে ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। পুলিশ তারদহ কেন্দ্র এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা থেকে জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম এবং বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তপন সরদার নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। অপরদিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচড়া ভোট কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ওই ভোট কেন্দ্রের ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ায় প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন।  বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভোট চলাকালে রূপপুরস্থ নিজ বাসভবনে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম। অপর দিকে ধানের শীষের প্রার্থী তপন সরদার ভোট কারচুপির অভিযোগ করে সংবাদ কর্মীদের জানান, আমি এই প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলাম। এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের এএসপি শেখ মোহাম্মদ জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচড়া ভোট কেন্দ্রে দুপুর সোয়া বারোটার দিকে মেম্বার প্রার্থী আবদুল করিম মিন্টু ও মেম্বার সমর্থক হাশেম ফকিরের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এএসপি জাহিদ বলেন, ওই ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের সময়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে এমন খবরে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, ভোট বর্জন, কেন্দ্র দখল, ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে বাধ্য করা, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া, সংঘর্ষ এবং ব্যালট কেড়ে নিয়ে পোলিং অফিসার ও এজেন্টদের প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট প্রদানের মধ্যদিয়ে সিংড়ার ১২টি ও বড়াইগ্রামের ৫টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেয়া, হুমকি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রতিকার না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় দুপুরের দিকেই আট বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোট শুরুর আধা-ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্র দখলে নেয় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় কিছু কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীরা নিজে ধানের শীষের প্রার্থীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এদিকে অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ও পোলিং অফিসাররা ব্যালট কেড়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারতে দেখা যায়। এছাড়া প্রায় কেন্দ্রেই ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়। নানা অভিযোগে বড়াইগ্রামের জোনাইলের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, মিঠামইন উপজেলার কাঞ্চনপুর হাওর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সাবেক মেম্বার মো. জসিম উদ্দিন ভূঞাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় আরো অন্তত ৭ জন আহত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে বেলা ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় মেম্বার প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন ভূঞাকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. মোতালেব হোসেন। স্থানীয়রা জানান, ৯নং ওয়ার্ডের মোরগ প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী সাবেক মেম্বার মো. জসিম উদ্দিন ভূঞা ও ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী বর্তমান মেম্বার মো. খলিল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর পরই কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। একপর্যায়ে বেলা ১টার দিকে মেম্বার প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন ভূঞাকে কেন্দ্রের সামনে পেয়ে প্রতিপক্ষ খলিল মিয়ার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তারা উপর্যুপরি কুপিয়ে জসিম উদ্দিনকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, রাণীনগরে ইউনিয়ন পরিষদ  নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ককটেল হামলা, পুলিশের ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার ওই ইউনিয়নের আল-আমিন দাখিল মাদরাসা, লোহাচুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিম্বা ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ধামরাইয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের ওপর হামলা করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল, বিএনপির প্রার্থীর ভোট বর্জন, এজেন্টদের হুমকি, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জালভোট ও ব্যাপক সংঘর্ষের  মধ্যে দিয়ে গতকাল ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২৪ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম থেকেই সানোড়া, আমতা, চৌহাট, গাঙ্গুটিয়া, বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারে আওয়ামী কর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের পাশাপাশি প্রার্থীরাও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সকাল ১০টার দিকে চৌহাট ইউনিয়নের ধুলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বিভূষণ চন্দ্র কুন্ডর কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে  সিল মারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা। পরে ওই কেন্দ্রে চেয়ারম্যানদের ব্যালট না থাকায় চেয়ারম্যান পদে কাউকে ভোট দিতে পারেনি ভোটাররা। এরপর বেলা ৩টার দিকে চৌহাটের মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. হায়দার আলীর কাছে আওয়ামী কর্মীরা ব্যালট পেপার চায়। এ সময় তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোহেল খান নিজে লোকজন নিয়ে তার ওপর হামলা করে এবং ব্যাপক মারধর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারে। এতে প্রিজাইডিং অফিসার গুরুতর আহত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিজিপি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, পঞ্চম দফা ইউপি নির্বাচনে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ব্যাপক সহিংসতা, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া, অস্ত্রের মহড়া ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের এসআইসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদানসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত ৩ প্রার্থীসহ ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে নির্বাচন বর্জন করেছেন। তারা হলেনÑ মৌকরা ইউপির বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কলিমুল্লাহ, ঢালুয়া ইউপির বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল হোসেন এবং সাতবাড়িয়া ইউপির বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জালাল উদ্দিন দুলাল। নির্বাচন চলাকালীন সময় দুপুর ১টা নাগাদ উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির রামেরবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টেকনিক্যাল অ্যান্ড কমার্স কলেজ ও কাদবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগতদের ককটেল হামলায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামিরুল ইসলাম, পুলিশের এসআই লিলুুছুর রহমান, এটিএসআই কামাল হোসেন, পোলিং অফিসার মিজানুর রহমান, আনসার সদস্য নূরজাহানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কেন্দ্র দুটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় একই ইউপি পরিকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
বগুড়া থেকে সংবাদদাতা জানান, বগুড়ায় নির্বাচনী সংহিসতায় তিনজন আহত হয়েছে। সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওই তিনকর্মী মারাত্মক আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরকার দলীয় সমর্থক প্রার্থী আবদুর রাজ্জাকের কর্মী সমর্থকদের হামলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় কৈচর এলাকায় আহত হয়েছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রভাষক মহররম আলীর ৩ নির্বাচনী কর্মী। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। হামলার সময় একটি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ এবং আরও ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে নৌকা মার্কার সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাইকোর্ট থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন অফিস থেকে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রভাষক মহররম আলী তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কৈচড়ে তার বাড়িতে যান। এরপর মহররম আলীকে রেখে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবদুর রাজ্জাকের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
সোনারগাঁ (নারায়নগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুলিশের গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যদিয়ে সোনারগাঁয়ে ১০টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনিয়ম, কারচুপি ও দলীয় লোকজনের উপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে দুপুরে বি.এন.পি’র তিন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। পুলিশ বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে প্রায় ১০রাউন্ড গুলিবর্ষনসহ লাঠিচার্জ করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর মোগড়াপারা হাইস্কুল কেন্দ্রে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী প্রায় শতাধিক ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলে দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং একই সময় কাবিলগঞ্জ ভোটকেন্দ্র থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনের নেতৃত্বে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়। এসময় পুলিশ ৫রাউন্ড গুলিবর্ষন করে। অপরদিকে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লক্ষীবরদী এলাকায় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ইদ্রিস আলী(৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।
সন্ধ্যায় অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান সকল ইউনিয়নের নির্বাচন বয়কট করেন।
ফলাফল প্রকাশের পর পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা এলাকায় বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী মজিবুরের সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থীর বাড়ীঘর ভাংচুর করে। অপরদিকে বিকেলে বৈদ্যেরবাজার কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রোবায়েত হোসেন শান্তর কাছ থেকে পুলিশ তার ব্যবহৃত লাইসেন্স করা একটি পিস্তল জব্দ করেছে।  সূত্র : ম. জমিন -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর