(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একই ঘটনায় শাহবাগ ও রমনা থানায় করা পুলিশের তিন মামলায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিএনপির ভাইস চেয়ারমান জয়নাল আবেদীন ও যুগ্ম মহাসচিব খোকনের আবেদন শুনে হাইকোর্টের দুইটি বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

জয়নাল আবেদীনের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ তকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়। আর মাহবুব উদ্দীন খোকনকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার আদেশ দেয় বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতে উপস্থিত জয়নাল অবেদীনের পক্ষে শুনানি করেন মওদুদ আহমেদ, মো. ওয়াজি উল্লাহ, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল ও এম আতিকুর রহমান। আর খোকনের স্ত্রী আখতারুন্নেছা আতিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি করেন মওদুদ আহমদ, সাকিব মাহবুব ও সানজিত সিদ্দিকী।

পরে জয়নালের আইনজীবী আতিকুর রহমান বলেন, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামালকেও ওই মামলায় চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে আদালত।

মাহবুব উদ্দীন খোকনের আইনজীবী সানজিত সিদ্দিকী বলেন, “যে ঘটনায় মাহবুব উদ্দিন খোকনের নামে মামলা হয়েছে, তার চারদিন আগে থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সময় বা পরে তাকে যেন তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করে- সে নির্দেশনা চেয়ে আজ তার সহধর্মিনী আখতারুন্নেছা আবেদন করেন। তার শুনানি নিয়েই আদালত রুলসহ নির্দেশনা দিয়েছে।” দেশে ফেরার পর মাহবুব উদ্দীন খোকনকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, রমনা ও শাহবাগ থানার ওসিসহ ১১ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে খোকন যেন জামিন আবেদন করতে পারেন, সেজন্য তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

সানজিত সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের এ আদেশ একমাস বলবৎ থাকবে। ফলে মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এই এক মাসের মধ্যে এসে জামিন আবেদন করতে হবে।”আগামী শনিবার মাহবুব উদ্দিন খোকনের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

গত ৩০ জানুয়ারি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জজ আদালতে এক মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশের ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা, ভাংচুরের অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দুটি ও রমনা থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ, যার তিনটিতেই জয়নাল ও খোকনকে আসামি করা হয়েছে। -ডেস্ক