(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠাণ্ডা-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শ করছেন না। সংক্রমিত নয়; কিন্তু জ্বর, সর্দি বা কাশির সমস্যায় ভুগছেন- এমন রোগীকেও চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

কোনো কোনো ডাক্তার জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেবেন না বলেও লিখে রেখেছন। বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণে জ্বর বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অনেক রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগী সরকারি হাসপাতালে রেফার করছে। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় আরও মুমূর্ষু হয়ে পড়ছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা চিকিৎসা করছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনই জ্বর-সর্দির চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

রোগীদের বলা হচ্ছে শনিবার আসবেন। কাউকে আইইডিসিআরের হটলাইন নাম্বার দেখিয়ে বিদায় করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কমপক্ষে ৬-৭ জন রোগীর স্বজনরা এমন অভিযোগ করেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে জরুরি বিভাগে বসা রিসেপশনিস্টের চেয়ারে বসা পারভেজ ও সাইমন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কথাও বলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সরেজমিন হাসপাতালে দেখা গেছে, হামিদুল তার সাড়ে ৩ বছরের শিশু ছেলে হোসাইন ও আরেক শিশুর পিতা হাসিজুম শেখ তার ৫ বছরের শিশু মেয়ে হাবিবাকে কোলে নিয়ে মুগদা জেনারেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

রিসিপশনিস্টের নিকট যাওয়া মাত্রই বলেন, আজকে চলে যান, শনিবারে আসবেন। এ সময় শিশুর দুই পিতা শিশুদের খুব ঠাণ্ডা, কাশি জ্বরে কয়েকদিন কি করব। তখন রিসেপশনিস্ট উত্তেজিত হয়ে বলল কী বলেছি কানে শুনেন না। উপায়ান্তর না পেয়ে রোগীরা চলে যায়।

তারা দুজন রামপুরার বনশ্রী থেকে এসেছিলেন। আরও দুই রোগী মজিবুর রহমান (৪০), কারিনা (২৬) রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে এভাবেই চলে যান। এভাবে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন।

শিশু রোগীর পিতা হামিদুল বলেন, আমার বাচ্চাটার ঠাণ্ডা ও জ্বরের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রামপুরা বনশ্রী থেকে আসলাম। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চলে যেতে হচ্ছে।

রোগীর স্বজন সুজন বলেন, আমার স্ত্রী কারিনাকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর রিসেপশনে বসা পারভেজ নামের এক লোক বলে ডাক্তার নেই শনিবারে আসেন। এ সময় তাকে অনুরোধ করলে সে উত্তেজিত হয়ে বলে হাসপাতালে তামাশা করতে আসেন।

এ দিকে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে থাকা একাধিক পুরনো রোগীর স্বজন বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লোকজন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের সঙ্গে আঁতাত করার কারণে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তি না নিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতালের লোকজনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে দালাল ভরপুর। যার ফলে হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে না। এত বড় ৫০০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ও জনশূন্য।

সাধারণ জনগণ সেজে এই সাংবাদিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রিসেপশনের চেয়ারে বসা পারভেজের নিকট জানতে চাইলেন, আপনারা রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত দিচ্ছেন কেন?

জবাবে পারভেজ বলেন, করোনাভাইরাস রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের রোগী কিনা না দেখে কিভাবে বুঝলেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠাণ্ডা, কাশি, গায়ে ব্যথা রোগীর এমন সিমটম বললেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি দেয়া হয় না।

এ দিকে হাসপাতালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগের এক ডাক্তার বলেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগী আসলে আমরা ফেরত দেই না। সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ভর্তিজনিত রোগীদের ১০৭ নম্বরে পাঠিয়ে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর সিমটম পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে বিভিন্ন রোগের ৬৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঠাণ্ডা, কাশিজনিত ২০-২৫ জন রোগী রয়েছে। -ডেস্ক