(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের একমাত্র শিশু পার্কটি খোয়া ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। পাশাপাশি পরিণত হয়েছে অবৈধ প্রেমের আখড়ায়। পৌর কর্তৃপক্ষের এদিকে কোন কর্ণপাত নেই বললেই চলে। তবে পার্কটি পাহারা দেয়ার জন্য পৌরসভার নিযুক্ত পাহারাদার রয়েছে ৩ জন। এদের মধ্যে ২ জন মোঃ কুরবান ও মোঃ দুলাল অপকর্মের হোতাদের কাছ হতে তোলা আদায় করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তোলা পায় দৈনন্দিন আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মাসিক।
অভিযোগপ্রাপ্তির পর সরেজমিন তদন্ত করে জানা যায়, ঐতিহাসিক দিনাজপুর শিশু পার্কটির সৌন্দর্য নষ্ট হতে চলেছে। দর্শনার্থীরা বা অভিভাবকমহল শিশু পার্কটিতে ভেতরে বেড়াতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বিদেশী পর্যটকরা ছিনতাই, নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে শিশু পার্কটি দর্শন করতে আসেন না। বিশেষ করে শিশু পার্কটির পূর্ব দিকে দেখে মনে হয় না এটি একটি শিশু পার্ক। মনে হয় যেন এটি খোয়ার হাট বা খোয়ার আড়ত। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, দিনাজপুর শিশু পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে কয়েকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। সরাতে পারেনি অবৈধভাবে গড়ে উঠা শিশু পার্কের পার্শে কিছু দোকান, বড়পুলের দুই পার্শ্বে অবস্থিত তেলের দোকান, ইট ও খোয়ার আড়ত। এ দিকে দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আজিজুল ইমাম চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দিনাজপুর শিশু পার্কটি সৌন্দর্য বর্ধন আমার পরিষদের কাজ নয়। এটা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের কাজ।
এদিকে শিশু পার্কটির পূর্বদিকের প্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে ৭/৮টি খোয়ার আড়ত। বাইরে থেকে ইট এসে স্তুপ করে রাখা হয় পার্কের প্রাচীর ঘেঁষে। এগুলো ভেঙ্গে খোয়া করা হয়। পার্কের প্রাচীরের দক্ষিণ এবং উত্তর কোণে দুটি অংশ ভেঙ্গে সেখানে দু’জন খোয়া ব্যবসায়ী ইটের স্তুপ করে রেখেছেন।
দুই ইট খোয়া ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা প্রথমে একজন পৌর কাউন্সিলরের নাম করে বলেন, তারা নির্দিষ্ট মাসোহারার চুক্তিতে শিশু পার্কের একাংশ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন। এদের একজন গণপ্রতিনিধির একান্ত কাছের মানুষ বলে দাবী  করেন যা আসলে মিথ্যা ও বানোয়াট।
শিশু পার্কের ভেতরে চলে মাদক ব্যবসা। মাদকসেবী গাঁজার ধোয়ায় শিশু পার্কটিকে নাকে রুমাল দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। পার্কে ভ্রমণে আসা কেউ কোন প্রতিবাদ করলে হঠাৎ যেন অলিখিত নিরাপত্তা কর্মী বাংলা সিনেমার মত কৌশলে তা রুখে দেন।
পার্কটির বেঞ্চে বসে জনপদ বধুদের সাথে প্রেম করে ইতর শ্রেণীর কিশোর থেকে শুরু করে যুবকেরা পর্যন্ত। দিবাভাগে এক প্রেম শুরু হয়, মাঝ রাত ছাড়িয়ে ভোর পর্যন্ত চলে এই জঘন্য অপকর্ম।
ভুক্তভোগী এবং দিনাজপুর জেলাবাসীর দাবী অবিলম্বে দিনাজপুর শিশু পার্কটির আশেপাশে অবৈধ দোকানী, অবৈধ স্থাপনা, ইট খোয়ার আড়ত অপসারণ করে এবং ছিনতাইকারী তথা বিভিন্নভাবে অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধকল্পে জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।