(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকা জেলা পরিষদের দুর্নীতির যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা এক কথায় ভয়াবহ। জানা গেছে, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের একটি গ্রামে মুসলিম ব্যতীত অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বসবাস না থাকলেও সেখানে দুটি মন্দিরের উন্নয়ন কাজ বাবদ ৪ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এ রকম উদাহরণ শুধু দু-একটি নয়, শত শত ভুয়া প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আÍসাৎ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সমর্থন ও ইন্ধন ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই- তা বলাই বাহুল্য। কারণ প্রতিটি প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, প্রথম চালানের অর্থ বরাদ্দ এবং সরেজমিন কাজের বাস্তবচিত্র ও অগ্রগতি দেখে চূড়ান্ত বিল ছাড় করাই নিয়ম। কাজেই ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা এর দায় এড়াতে পারেন না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সরকার স্থানীয় পর্যায়ের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে থাকে। অথচ এ ক্ষেত্রে কাজির গরু কেতাবে আছে- গোয়ালে নেই অবস্থা বিরাজ করছে। নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।

 দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তারে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না। শুধু জেলা পরিষদে বিরাজমান দুর্নীতি নয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানেও নানা উপায়ে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটে চলেছে। এর ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়। শুধু মুখে দুর্নীতিবিরোধী কথা না বলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার উদ্যোগ নেয়া হলে সুফল পাওয়া যাবে। আমরা মনে করি, এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সেই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
(ডেস্ক)