(দিনাজপুর২৪.কম)  প্রতিদিন খবরের কাগজে ঢুকলেই দেখতে পাই সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর। কিন্তু আজ আমরা জানব বিশ্বের প্রথম সড়ক দুর্ঘটনা । সড়ক দূর্ঘটনায় যে পরিবারের সদস্যটি মারা যায় সেই পরিবারের অপর সদস্যরাই কেবল জানেন, স্বজন হারানোর যন্ত্রণা কেমন হতে পারে। সভ্যতার উৎকৃষ্টতায় মানুষ ক্রমাগত নতুন নতুন যোগাযোগ মাধ্যম আবিষ্কার করছে। সেই ঘোড়ার গাড়ির জামানা থেকে বাষ্পইঞ্জিনচালিত অটোমোবাইল জামানায় আসতে মানুষকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম কার্ল বেঞ্জ আধুনিক ঘরানার মোটরচালিত ওয়াগন বাজারে নিয়ে আসে। যদি প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বের প্রথম সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে কবে, তাহলে অধিকাংশ মানুষই ১৮৮৬ সালের পরের কথা বলবেন। কিন্তু প্রথম সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে আরো অনেক আগে।

বাষ্পইঞ্জিন আবিষ্কারের পর প্রথম সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৬৯ সালে। আর এই দূর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন মেরি ওয়ার্ড নামের এক নারী বিজ্ঞানী। সেই যুগে একজন নারীর পক্ষে বিজ্ঞানী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সহজ ছিল না।

কিন্তু মেরি ছিলেন ইউরোপের বিখ্যাত এক বিজ্ঞানী পরিবারে। এই পরিবারের জন্মানোর কারণে কিছুটা বাড়তি সুবিধা তিনি পেয়েছিলেন ইউরোপের অন্য সব নারীর তুলনায়। মেরির চাচাতো ভাই উইলিয়াম পারসনই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন।

মেরির অপর এক চাচাতো ভাইও ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। যিনি সে সময় প্রথমদিককার বাষ্পচালিত অটোমোবাইল তৈরি করেছিলেন। ভাইয়ের আবিষ্কারে মেরিও যেন নতুনত্বের স্বাদ পেয়েছিল।

তাই তো ভাইয়ের বানানো অটোমোবাইলে চড়ে খানিকটা বেড়িয়ে আসতে গেলেন তিনি। কিন্তু গাড়ি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই গাড়ি বাঁক ঘোরার সময় উল্টে যায় এবং মেরি গাড়ির চাকার তলায় চাপা পরে তাৎক্ষণিক মারা যান।

বর্তমানের গাড়ির মতো হালকা ছিল না সেসময়ের গাড়িগুলো। মেরির চাচাতো ভাইয়ের বানানো গাড়ির ওজন ছিল ১৪ টনেরও বেশি, যা বর্তমান দিনে অন্তত অটোমোবাইলের ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যায় না। -ডেস্ক