স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহে জেকেজি হেলথকেয়ারকে অনুমতি দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা অনুমতিপত্র সংবলিত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। তার দাবি, চাপের মুখে জেকেজিকে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কিছু নেতাকে নিয়ে জেকেজির সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী এসে করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের চাপ দেন। সেই চাপের মুখে জেকেজিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

নাসিমা সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত ডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। গত বুধবার জেকেজির জালিয়াতির মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল  বলেন, জেকেজির মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানার সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ডিবির একটি দল বুধবার দুপুরের দিকে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান। এর আগেই তারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ডিবির তদন্ত দল জেকেজি হেলথকেয়ারকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমোদনসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখতে চায়। এ সময় জেকেজির বিষয়ে নাসিমা সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে পদত্যাগী মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে পাওয়া যায়নি। তাকে পরে মিন্টো রোডে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে অর্থ নিচ্ছিল জেকেজি। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী, তার স্ত্রী ড. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জেকেজি হেলথকেয়ারের জালিয়াতির বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানতেন বলে জানিয়েছেন সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও আরিফুল হক চৌধুরী। এমনকি নমুনা সংগ্রহের অনুমোদনের জন্য প্রপোজাল থেকে শুরু করে সব কিছুতেই জেকেজিকে তারা পরামর্শ দিয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জালিয়াতি করে জেকেজি শতকোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

জেকেজির বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনার টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জব্দ করা ল্যাপটপে এর প্রমাণ মিলেছে। আরিফ চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান, জেকেজির সাত-আট কর্মী ভুয়া এ রিপোর্ট তৈরি করেছেন। -ডেস্ক