-পুরনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কয়েকদিন চলতে পারে। শীতের সাথে করোনার প্রকোপও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তার দ্বিগুণ ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮-৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিরাজ করছে।

চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়। সেদিন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রিতে নেমেছিল তেঁতুলিয়ায়।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ শনিবার বলেন, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া ও বরিশালে মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দুয়েকদিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়ত আর নামবে না। দুয়েকদিন পর তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ তীব্র হওয়ার শঙ্কা নেই। তবে চলতি মাসে আরেক দফা শৈত্যবাহ বয়ে যেতে পারে। ২৫/২৬ ডিসেম্বরের পরে ফের তাপমাত্রা কমতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়লে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় অ্যাজমা, সিওপিডিসহ ফুসফুসের রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়। করোনা ভাইরাসের মূল টার্গেটই যেহেতু ফুসফুস, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে অল্প পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করেই বেশি ক্ষতি করতে পারে। তাপমাত্রার সঙ্গে করোনা ভাইরাসের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকলেও শীতে এর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ শুষ্ক আবহাওয়ায় এই ভাইরাস বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকে, তাই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং অণুজীব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমিত করতে পারে বা নিজের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে যে, তীব্র শীতে এই ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় হাঁচি, কাশি দেওয়া হলে বাতাসে জীবাণুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকে। গরমের সময় সেটা যখন দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু শীতের সময় অনেকক্ষণ ধরে বাতাসে থাকে। ফলে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হচ্ছে, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর হওয়ার কথা বলেছে সরকারের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিটি।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষ রাত থেকে সকাল অবধি সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও কমার আভাস রয়েছে।

বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত চলে জানুয়ারি মাসজুড়ে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডেস্ক রিপোর্ট