(দিনাজপুর২৪.কম) ২০১২ সালে রাশিয়াতে মাত্র ১১ বছর বয়সের একটি বাচ্চা ছেলে এমন একটি ম্যামথের দেহাবশেষ আবিষ্কার করে যেরকম অক্ষত ও প্রায় সম্পূর্ণ কঙ্কাল গত একশ বছরের মধ্যেও মেলেনি। উত্তর সাইবেরিয়াতে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে হাঁটতে গিয়ে এই ম্যামথের সন্ধান পায় ওই ছেলেটি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাচ্চা ছেলেটি যখন আর্কটিক মহাসাগরের ধারে একটি খাড়া উঁচু পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তখনই তার চোখে পড়ে ম্যামথটির একটি পা মাটি থেকে বেরিয়ে আছে। বাচ্চা ছেলেটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ম্যামথটির নামকরণও করা হয়েছে ঝেন্যা। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, প্রায় তিরিশ হাজার বছর আগে মৃত্যু হয়েছিল এই ম্যামথটির। আর তখন থেকেই তার দেহ চাপা পড়েছিল তুষারের নিচে।

কিন্তু সম্প্রতি ওপরের সেই বরফের চাদর ক্ষয়ে গিয়ে ম্যামথটির দেহাবশেষ বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে ম্যামথ। কিন্তু সেই জীবের প্রায় অক্ষত একটি দেহাবশেষ এই বিলুপ্ত প্রাণীটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের অনেক অজানা তথ্য দিতে পেরেছে।

রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের জুলজিক্যাল ইনস্টিটিউটে সহ-অধিকর্তার পদে আছেন অ্যালেক্মি টিকোনভ। তিনি জানিয়েছেন, ঝেন্যার এই আবিষ্কার ম্যামথের অ্যানাটমি সম্পর্কে তাদের ইতোমধ্যেই অনেক নতুন জিনিস শিখিয়েছে। ম্যামথের পিঠের ওপরে কেন কুঁজগুলো থাকে, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে এই আবিষ্কার।

তাঁরা দেখেছেন, উত্তরের মেরু অঞ্চলের জলবায়ুগত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই ম্যামথ ভালভাবেই তৈরি ছিল এবং অভিযোজিত ছিল। শীতকালের জন্য তারা শরীরে বিশাল চর্বি বা ফ্যাটজাতীয় পদার্থের মজুত জমা করত। এক কথায়, নতুন এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছে। আর এসবের মূলে আছে ১১ বছরের একটা বাচ্চা ছেলের কৌতূহল আর সাহস! -ডেস্ক