(দিনাজপুর২৪.কম) একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীকে আগামী জুন মাসেই রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচন সভাটির আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সেই অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশের যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নজির অনুসরণ করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশেও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর এ দাবি আরো জোরালো হতে শুরু করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বাম ঘরানার সব রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ দাবিতে সোচ্চার।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া পর্যবেক্ষণেও মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকার জন্য দলটিকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানান, ‘সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ কিংবা বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস দমন আইনের বিধান প্রয়োগ করে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।’

আজকের অনুষ্ঠানে মোজাম্মল হক আরো বলেন, ‘ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকার পতনের চেষ্টায় সফল হবে বলে বিএনপি আসলাম চৌধুরীকে প্রোমোশন দিয়ে যুগ্ম মহাসচিব বানিয়েছে। বিএনপি মনে করেছিল ইসরায়েলের সঙ্গে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা থাকবে। কিন্তু সব জানাজানি হয়ে গেছে। গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন সব বেরিয়ে আসবে এবং এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরো কারা জড়িত ছিল, সেটিও বেরিয়ে আসবে।’

সংগঠনের সভাপতি চিত্রনায়ক ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি চলচ্চিত্র অভিনেতা ড্যানি সিডাক, সাধারণ সম্পাদক ফালগুনী হামিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগ উপকমিটির নেতা এমএ করিম প্রমুখ। -ডেস্ক