(দিনাজপুর২৪.কম) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশা করলেও বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন তার চেয়ে কম।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক হিসাবে ২৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচেই থাকবে।
বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে সোমবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এ সংস্থার হালনাগাদ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টসে’ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনের আগের হার বহাল রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাইরে চাহিদা বাড়ায় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানোর কথা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কয়েক দিন আগেই সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, হাওরে সাম্প্রতিক ফসলহানি, রফতানি ও রেমিট্যান্সে মন্দা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার কথা।
বিশ্বব্যাংক বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও চলতি বছর বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে কৃষি ও সেবা খাত চাঙ্গা থাকার কারণে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প উৎপাদনের পরিস্থিতিও ভালো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দামে স্থিতিশীলতা ও রফতানিতে সামান্য হলেও প্রবৃদ্ধি থাকায় বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও কমেছে। উপযোগী আবহাওয়া ও তেলের দাম কমার কারণে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
তবে রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্দা থাকায় কিছুটা উদ্বেগ থাকছেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মন্দা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশের সামষ্টিক ভোগ ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। -ডেস্ক