মোঃ আফজাল হোসেন ফুলবাড়ী (দিনাজপুর২৪.কম)  বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদন শীল এবং বর্তমানে লাভজনক দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট শিলা খনিটিতে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়ামের অধীনে কর্মরত প্রায় শহশ্রাধিক খনি শ্রমিক , কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা, রক্ষনাবেক্ষন এবং উৎপাদন কাজে নিয়োজিত বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র সাথে করা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি ফেব্রুয়ারী মাসের ১৯ তারিখে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য কোন টেন্ডার দেয়নি মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ, মধ্যপাড়া গ্রানাইট ম্াইনিং কোম্পানী লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। ফলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। এই সময়ে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র মেয়াদ শেষে তাদের চুক্তি কি নবায়ন করা হবে? কতদিন উৎপাদন সচল রাখার অনুমতি পাবে জিটিসি না কি? খনি কর্তৃপক্ষ অন্য কোন উপায়ে খনি সচল রাখবেন এই নিয়ে মুখ খুলছেন না খনির কোন কর্মকর্তা? নতুন চুক্তি করে ঠিকাদার নিয়োগ করা পর্যন্ত পাথর উত্তোলন কি বন্ধ থাকবে ? এই ধুয়াশায় উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন খনিতে কর্মরত প্রায় সাড়ে ৭ শত খনি শ্রমিক সহ শহশ্রাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী।
খনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান খনিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হুট করে নতুন কোনো কোম্পানীকে অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য কাজ দেওয়া খুবই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত হবে। যদি এই মহুর্তে দরপত্র আহবান করতে সময় লাগে কিংবা কোন ভালো কোম্পানী পাওয়া না যায় তাহলে বর্তমান কোম্পানীকেই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য রাখাটাই নিয়ম। খনির কাজে হুট করে অচেনা-অজানা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। এই নিয়ে যদি কোনো ধরনের অঘটন কিংবা দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায় দায়িত্ব কে নিবে? এছাড়া এই জিটিসি’র সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ডের কারনেই প্রায় এক যুগ পর প্রথমবারের মতো লাভের মুখ দেখেছে দেশের একমাত্র এই গ্রানাইট শিলা খনিটি। পাথর খনি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মুনাফা করেছে ১১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
পেট্রোবাংলার এক রিপোর্টে জানা গেছে, চুক্তি শেষে যদি কোন কোম্পানীকে নিয়োগ দিতে হয় তাহলে আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহবান করতে হবে। আর দরপত্র আহবানের আগে যদি অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য কাউকে নিয়োগ দিতে হয় তাহলে বর্তমান কোম্পানীকেই দিতে হবে। এতে জবাবদিহিতা থাকবে। কোন ক্ষতি হলে জামানতের টাকা থেকে সম্বন্বয় করা যাবে।
জিটিসি সুত্র জানায়, ২০১৩ ইং সালের ২ সেপ্টেম্বর করা চুক্তি অনুযায়ী তারা ৬ বছর খনিতে কাজ করার কথা। কিন্তু পাথর খনি কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএল) এর নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রশাসনিক জটিলতা, ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন না করা এবং মালামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানীর অনুমতি না দিয়ে ৪৭ মাস কাজ না করিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল তাদেরকে। এমনকি তাদের পাওনা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল ৩ বছর। এ কারনে তারা নতুন ভাবে আরও ৪৭ মাস সময় বাড়ানোর দাবী জানিয়েছে। এমজিএমসিএল তাতেও আপত্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য আরবিট্রেশন আদালতে মামলা করেছে জিটিসি। শুনানিতে জিটিসি দাবী করেছে, তারা এমজিএমসিএল এর অনীহার কারনে ৪৭ মাস খনিতে কাজ করতে পারেনি। তাছাড়া তাদের ২৪০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
সুত্রটি আরো জানায়, জিটিসি খনির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে খনি উন্নয়ন ও নতুন স্টোপ নির্মান সহ পাথর উত্তোলনে শতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ ৭ শতাধিত খনি শ্রমিক তিন শিফটে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে পাথর খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন হচ্ছে যা খনির উৎপাদন ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়া রেকর্ড ।
পাথর খনির তালিকাভুক্ত একজন নির্ধারিত ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,জিটিসি পাথর উত্তোলনে পারদর্শী তার প্রমান দিয়েছে তারা। আগে এই পাথর খনি পাথর শুণ্য ছিল। ছিল ক্রেতা শুন্য । জিটিসি পাথরে ফুল ফুটিয়েছে। এখন পাথরের ক্রেতাদের আগমন ,শত শত শ্রমিকের পদচারনায় মুখরিত থাকে পাথর খনি এলাকা।
খনি এলাকার সচেতন মানুষরা বলেছেন, নতুন করে কোন কোম্পানী কাজ দিলে সেই কোম্পানী তাদের মত করে খনি বুঝে নিয়ে কাজ করতে কয়েক মাস সময় লাগলে। ফলে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে । আর এতে বেকার হয়ে পড়বে খনির এই শত শত শ্রমিক । আর পুরাতন কোম্পানী জিটিসি যেহেতু খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে তাই তাদেরকেই তাদের নষ্ট হওয়া সময় বর্ধিত করলে বা চুক্তি নবায়ন করলে খনির রেকর্ড পরিমান উৎপাদন অব্যাহত থাকবে এবং খনিটি প্রতি বছর লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই থাকবে। সরকার এ খনি থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় করেছে। যা ইতি পূর্বে মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখাতে পারেনি। তাই বিষয়টি খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অসুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বে-সরকারি সংস্থা জিটিসি।