অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও সভাপতি মিশা সওদাগর।- পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনাকালীন সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবারও পুরোদমে কাজে ফিরতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তবে চলচ্চিত্রের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রযোজক ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাস তিন আগে অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল সংগঠনগুলো। তা এখনো বহাল থাকছে।

আজ বুধবার দুপুরে এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব হলরুমে ‘চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষার লক্ষ্যে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা ১৮ সংগঠনের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘চলচ্চিত্রের স্বার্থ বিরোধী কাজের কারণে আমরা তার (জায়েদ খান) প্রযোজক সমিতির পদটি বাদ দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ জায়েদের সঙ্গে কোনো কাজ করবেন না।’

খসরু আরও বলেন, ‘১৩ জুলাই জায়েদকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেটা প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সিদ্ধান্ত। আর আজ আমরা সব সংগঠন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম। দুটির সিদ্ধান্ত একই হলেও দুটি দুই প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা।’

পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘জায়েদ খানকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ। সে প্রযোজক ও পরিচালকদের সম্মান না দিয়ে, তাদের হেয় করে কথা বলে। শুধু প্রযোজক ও পরিচালকই নয়, অনেক শিল্পীকেও তিনি নানাভাবে অপমান ও হয়রানি করেছে। সে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। একজন শিল্পীর কাছ থেকে এটা মোটেও কাম্য নয়। তাই আমরা সবাই মিলে (১৮টি সংগঠন) জায়েদ খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মিশার বিষয়ে এই নির্মাতা বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা আনতে এবং নির্মাণ ব্যয় কমাতে গত অক্টোবরে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে প্রযোজক সমিতি। এটি বাস্তবায়ন হলে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ ন্যূনতম ১৫ লাখ টাকা কমে যাবে। বিষয়টি নিয়ে একটি শুটিং ফ্লোরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান মিশা। তখন প্রযোজক সমিতি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়। এটা লকডাউনের আগের ঘটনা। তখন জানানো হয়, প্রযোজক সমিতির কোনো সদস্য মিশাকে নিয়ে কোনো ছবি করবেন না বা তাকে নিয়ে কেউ অনুমোদন নিতে এলে তার ছবিটি অনুমোদন দেওয়া হবে না। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে।’

জায়েদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিলের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খরচের জন্য নগদ ৬ লাখ টাকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নিকট থেকে সরাসরি গ্রহণ করেন। কিন্তু জাতীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত অর্থ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু, জায়েদ খানকে বারবার চিঠি দিয়ে সভায় উপস্থিত থেকে ৬ লাখ টাকার হিসাব প্রদান করার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি সভায় উপস্থিত হননি এবং এর হিসাবও দেননি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিয়ে গঠিত চলচ্চিত্র পরিবারের প্রণয়নকৃত নীতিমালা যারা মেনে কাজ করবেন, শুধুমাত্র তাদেরকে নিয়েই এখন থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। যারা এই নীতিমালা মানতে অপারগতা প্রকাশ করবেন তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, ফিরোজ শাহি, মোহাম্মদ ইকবাল, শামসুল হক, অভিনেতা ওমর সানীসহ অনেকে। -ডেস্ক