জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) তালা উপজেলার জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ১০টি মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। আর ৫০টি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা পানির মধ্যে ক্লাস করছে। সবমিলিয়ে উপজেলায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মলি¬ক জানান, বন্যার কারণে পরীক্ষা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পানি একটু কমলে আবার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। কয়েক দিনের টানা বর্ষনের পানি কপোতাক্ষ নদ দিয়ে নিস্কাশিত হতে না পেরে তালায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার শতাধিক গ্রামে বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় মৎস্য, কৃষিখাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে ব্যবসা-বানিজ্যসহ স্যানিটেশন ও শিক্ষা ব্যবস্থা। এলাকায় সু-পেয় পানি সংকট ও পানি বাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে। পানিবন্ধি দরিদ্র মানুষ’র কাজ কর্ম না থাকায় তাদের মধ্যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা বর্ষা ও জলাবদ্ধতায় জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য শনিবার থেকে তালা উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাসহ কলেজ বন্ধ ঘোষনা করা হয়। চরম প্রতিকূল পরিবেশের জন্য সোমবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, জলাবদ্ধতার পানি নিস্কাসনের জন্য তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার, তালা সদর, ইসলামকাটীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের খাল থেকে নেট-পাটা অপসারন করা হয়েছে। এছাড়া কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিস্কাসন সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় পানি নিস্কাসনের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষৎ কুমার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। উল¬খ্য, টানা বর্ষন, আর কপোতাক্ষ নদে উজান থেকে নেমে আসার পানির চাপসহ কপোতাক্ষ নদের কাশিমনগর এলাকা থেকে ভাটি অভিমূখে নদ খনন না হওয়ায় তালায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প¬াবিত হয়েছে। পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ।