জুয়েলশাহ্ ও রফিকুল ইসলাম, জলঢাকা (দিনাজপুর২৪.কম)  শ্রমিক সংকট, বীজতলায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত, পর্যাপ্ত পানি স্বল্পতা ও মৌসুমি চাষাবাদকৃত ফসলাদির দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় নানানবিধ দুচিন্তার মধ্য দিয়ে মৌসুমি ফসল ইরি-বোরোর চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার কুষককুল। শুধু যে তাই তাও নয়, স্বয়ং কৃষককুল নিজেই পরিবার পরিজন নিয়ে কোমর বেধে নেমে পড়েছেন মৌসুমি ফসল চাষাবাদে। সম্প্রতি এই সময়ে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য সিংহভাগ কায়িক শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছেন দক্ষিন অঞ্চলে। এতেই এ অঞ্চলের কৃষক কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। শৈত্য প্রবাহ ও কুয়াশাভরা শীতকে উপেক্ষা করে কৃষকরা তাদের চাষাবাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫ শত ২৫ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষককুলের দাবী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত চাষাবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে অধিক জমিতে ফসল ফলানো হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে ফসল কৃষকের ঘরে পূনাঙ্গ উঠবে কি না তা নিয়ে সংস্বয় রয়েছে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে চারা সংকট হওয়ায় বিপাকে রয়েছে কৃষক। ফলে এবার ইরি-বোরো মৌসুমে কম পরিমাণে ধান উৎপাদন হবে বলে মনে করেছে সংশ্লিষ্টরা। কৈমারীর কৃষক মনোরঞ্জন রায় জানান, পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় ১২ থেকে ১৫ শত টাকা বিঘা প্রতি ব্যয় নির্ধারণ করে জমিতে চারা লাগাতে হচ্ছে। তিনি জানান অধিক শ্রমিক থাকলে এত টাকা কৃষককে লাগত না। কালিগঞ্জ বঙ্গবন্ধু এলাকার কৃষক সুধারাম জানান, ৫ বিঘা জমির জন্য বীজ রোপন করেছিলাম। তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সে বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সম্ভবত এই চারা দিয়ে ২ বিঘা জমিতে রোপন করা যাবে কী না তা নিতান্ত্যই সন্দেহ রয়েছে। বাধ্য হয়ে বাকী জমিতে অন্য ফসল চাষাবাদ করব। বালাগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীকান্ত রায় জানান, গরু, মহিষ না থাকায় জমি চাষের খুব সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করলেও মই দেওয়া যায় না। এরপরেও তেল, সারের দামও বেশি। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এর মধ্যে অনেক কৃষককুল এখনো পর্যন্ত চারা রোপন করতে পারেনি। এপর্যন্ত মাত্র ৫ শত ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল ফলানো হয়েছে । বাকী জমিতে পর্যায়ক্রমে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে পর্যাপ্ত চাষাবাদকৃত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষক হবে কৃষক।