মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (দিনাজপুর২৪.কম) ধারালো দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে ক্রয়কৃত ভোগদখলীয় জমিতে হাল চাষে বাধা দেয়ার ঘটনায় ১জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালে সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাট এলাকায়।
জানা যায়, কয়া গোলাহাট এলাকার মৃত. মস্তরাম রায় ১৯৯৬ সালে মৃত. নবীন চন্দ্রের কাছ থেকে ১৬ শতক জমির মধ্যে ১২ শতক জমি ক্রয় করে। কিন্তু তার কিছুদিন পর নবীন চন্দ্র মারা গেলে তার ছেলে হরেন চন্দ্র জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করে। ২০০৪ সালে ওই মামলায় জমির ক্রেতা মৃত. মস্তরাম রায়ের পক্ষ্যে রায় হয়। তখন থেকে পিতার কেনা জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন মস্তরাম রায়ের ছেলে নিশি রঞ্জন রায়। এমতাবস্থায় গত ২৯ আগষ্ট সকালে নিশি রঞ্জন জমিতে চাষ দিতে গেলে হঠাৎ করে আবারও হরেন চন্দ্র ও তার ছেলে রঞ্জন চন্দ্র, সুশান্ত চন্দ্র ও মঙ্গল চন্দ্র, মেয়ে প্রভাতী, ছেলের স্ত্রী কুসুম দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দা, কুড়াল, চাকু, লাঠি-সোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হালচাষে বাধা প্রদান করে। এসময় নিশি রঞ্জন রায় তাৎক্ষনিক থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মঙ্গল চন্দ্র ও তার স্ত্রী কুসুমকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করতে পায়নি পুলিশ। পরে থানা থেকে মঙ্গলের স্ত্রী কুসুমকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে নিশি রঞ্জন রায় জানান, হরেন চন্দ্র রায় তার বাবা বেঁচে থাকা কালিন কোন মালিকানা দাবি না করলেও তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই অন্যায়ভাবে বিক্রিত জমিতে মালিকানা দাবি করে মাঝে মাঝেই চাষাবাদে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার লোকজনসহ অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাৎক্ষনিক পুলিশ আসায় তেমন কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তারা প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই সদলবলে দা, কুড়াল, চাকু, লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা করেছিল।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।