বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) ঘের দখল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাহিদ নামের এক ব্যক্তিকে মারপিট করায় জনতার তোপের মুখে পড়েছে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল করিম মোড়ল। জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য এসময় সে আওয়ামীলীগ নেতার দোকানে আশ্রয় নিলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে। এসময় উত্তেজিত জনতাকে সামাল দিতে পুলিশকে বারবার লাঠি উচিয়ে ধাওয়া করতে হয়। পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে করিমকে উদ্ধার করতে রীতিমতো হিমশীম খেতে হয় পুলিশকে।
প্রত্যক্ষদর্শী কুদ্দুস মোড়ল, আব্দুর রহমান শেখ ও রফিকুল ইসলাম সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রসাদপুর বিলে খলিলগর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল করিম মোড়ল’র ৩বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘের রয়েছে। এই ঘেরে পাশে খলিলনগর গ্রামের মৃত. লিয়াকত মোড়লের ছেলে জাহিদ মোড়ল’র ৩৫ বিঘা আয়তনের মৎস্য ঘের রয়ছে। জাহিদের মৎস্য ঘেরটি করিম মোড়ল জোরদখল নেয়ার চেষ্টা চালালে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী জাহিদ মোড়ল জানান, প্রসাদপুর গ্রামের কওছার মোড়ল’র ছেলে আব্দুল করিম মোড়ল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির পদ ব্যবহার করে ঘের দখলের জন্য তাকে কয়েকদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় খলিলননগর বাজারে নিজ ডিপো ঘরে আসলে জাহিদ মোড়ল’র উপর আকস্মিক হামলা চালায় আব্দুল করিম ও ছাত্রদল নেতা আল আমীন। হামলার একপর্যায়ে বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে জাহিদকে উদ্ধার করে। করিম ও আল আমীন’র অতর্কীত মারপিটে জাহিদ গুরুতর আহত হয়। হামলাকারী আল আমীনের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও সাংবাদিক গাজী মোমিন উদ্দীন’র উপর বর্বর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নিরিহ ঘের ব্যবসায়ী জাহিদকে মারপিট করার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয় ওঠে বাজারে মানুষ। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গ্রাম থেকে শত শত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসে। এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে আব্দুল করিম খলিলনগর বাজারে অবস্থিত আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম রসুল’র দোকানে আশ্রয় নিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেখানেই তাকে অবরুদ্ধ করে এবং বাজারে ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খলিলনগর ক্যাম্প পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় সংবাদ পেয়ে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ তৎক্ষাত ঘটনাস্থলে পৌছায়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। পরে করিম মোড়লকে উদ্ধার করে স্থানীয় খলিলনগর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এরিপোর্ট লেখাকালে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার পর এলাকায় শান্তিপূর্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করে দেয়।