1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. erwinhigh@hidebox.org : adriannenaumann :
  3. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  4. AnnelieseTheissen@final.intained.com : anneliesea57 :
  5. ArchieNothling31@nose.ppoet.com : archienothling4 :
  6. ArmandoTost@miss.wheets.com : armandotost059 :
  7. BernieceBraden@miss.kellergy.com : berniecebraden7 :
  8. maximohaller896@gay.theworkpc.com : betseyhugh03 :
  9. BorisDerham@join.dobunny.com : borisderham86 :
  10. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  11. Burton.Kreitmayer100@creator.clicksendingserver.com : burton4538 :
  12. CathyIngram100@join.dobunny.com : cathy68067651258 :
  13. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  14. Concetta_Snell55@url-s.top : concettasnell2 :
  15. CorinneFenston29@join.dobunny.com : corinnefenston5 :
  16. anahotchin1995@mailcatch.com : damionsargent26 :
  17. marcklein1765@m.bengira.com : danielebramlett :
  18. rosettaogren3451@dvd.dns-cloud.net : darrinsmalley71 :
  19. cyrusvictor2785@0815.ru : demetrajones :
  20. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  21. emmie@a.get-bitcoins.online : earnestinemachad :
  22. nikastratshologin@mail.ru : eltonmcphee741 :
  23. EugeniaYancey97@join.dobunny.com : eugeniayancey33 :
  24. Fawn-Pickles@pejuang.watchonlineshops.com : fawnpickles196 :
  25. vandagullettezqsl@yahoo.com : gastonsugerman9 :
  26. panasovichruslan@mail.ru : grovery008783152 :
  27. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  28. audralush3198@hidebox.org : jacintocrosby3 :
  29. elizawetazazirkina@mail.ru : katjaconrad1839 :
  30. KeriToler@sheep.clarized.com : keritoler1 :
  31. Kristal-Rhoden26@shoturl.top : kristalrhoden50 :
  32. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  33. jarrodworsnop@photo-impact.eu : lettie0112 :
  34. cruz.sill.u.strate.o.9.18.114@gmail.com : lonnaaubry38 :
  35. lupachewdmitrij1996@mail.ru : maisiemares7 :
  36. corinehockensmith409@gay.theworkpc.com : meaganfeldman5 :
  37. shauntellanas1118@0815.ru : melbahoad6 :
  38. sandykantor7821@absolutesuccess.win : minnad118570928 :
  39. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  40. news@dinajpur24.com : nalam :
  41. marianne@e.linklist.club : noblestepp6504 :
  42. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  43. armandowray@freundin.ru : normamedlock :
  44. rubyfdb1f@mail.ru : paulinajarman2 :
  45. PorterMontes@mobile.marvsz.com : porteroru7912 :
  46. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  47. brandiconnors1351@hidebox.org : roccoabate1 :
  48. Roosevelt_Fontenot@speaker.buypbn.com : rooseveltfonteno :
  49. kileycarroll1665@m.bengira.com : sabinechampion :
  50. santinaarmstrong1591@m.bengira.com : sawlynwood :
  51. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  52. gorizontowrostislaw@mail.ru : spencer0759 :
  53. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
  54. teriselfe8825@now.mefound.com : vedalillard98 :
  55. online@the-nail-gallery-mallorca.com : zoebartels80876 :
রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি :
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত "বাংলাদেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অগ্রগতি কেন্দ্র" এর দিনাজপুর সহ সকল শাখায়  RMP, LMAFP. L.V.P,  Paramedical, D.M.A, Nursing, Dental পল্লী চিকিৎসক কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভর্তির শেষ তারিখ ২৫/১১/২০১৯ বিস্তারিত www.bttdc.org ওয়েব সাইটে দেখুন। প্রয়োজনে-০১৭১৫৪৬৪৫৫৯

জনগণকে অন্ধকারে রেখে চুক্তি সমঝোতা হয়েছে

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭
  • ২ বার পঠিত

(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকে ‘কেবলই দেয়ার, কিছুই না পাওয়ার’ সফর বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে কেবল আশ্বাস নিয়ে খালি হাতেই ফিরেছেন। জমকালো আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বাংলাদেশ যে বঞ্চিত ছিল সেই বঞ্চিতই থেকে গেছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি এই সফরে। দেশের জনগণকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। স্পর্শকাতর বিষয়ে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দেশের জনগণের সঙ্গে আমরাও শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে  তৃপ্ত দাবি করলেও দেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত তো নয়ই বরং আতঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে গতকাল গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে দু’দেশের মধ্যে অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সেগুলোর বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রস্তাবিত চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে সফরের আগে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কারো মতামত নেয়া হয়নি। তাদের একতরফা কথিত পার্লামেন্টেও কোনো আলোচনা হয়নি। এই গোপনীয়তার কারণে সকলের মধ্যে যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছিল সফরের পর তা যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং রপ্তানি-পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি। জনগণের দাবি সত্ত্বেও ঐতিহ্য ও গৌরবের সুন্দরবন-বিনাশী এবং পরিবেশ বিধ্বংসী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেননি। বরং তাকে কতগুলো আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় ভারতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতেই চুক্তি ও সমঝোতা সই করা হয়েছে। এই সফরকে দেশবাসী কেবলই দেয়ার এবং কোনো কিছুই না পাবার এক চরম ব্যর্থ সফর বলেই মনে করে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনপুষ্ট জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বিএনপিই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দেশ-জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্বার্থ জড়িত রয়েছে এমন কোনো বিষয়ে বিএনপি নীরব থাকতে পারে না। বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। আওয়ামী লীগ আগেই ১৫৪ জনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন করেছিল। বাকি আসনগুলোতেও বিএনপিসহ উল্লেখযোগ্য কোনো বিরোধী দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আসেনি। ভোটাররাও ব্যাপকভাবে বর্জন করেছিল। তিনি বলেন, অনুগত কমিশন, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যোগসাজশে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট দেখানো হলেও সবাই জানে, শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি। বর্তমান সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দল নেই। দেশে বলবৎ রয়েছে জবাবদিহিতাহীন একতরফা স্বৈরশাসন। তিনি বলেন, এতবড় প্রহসন ও জালিয়াতির মাধ্যমে গঠিত সরকারের নৈতিক কোনো ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। জনগণের সম্মতি ও প্রতিনিধিত্বহীন এ ধরনের সরকারের জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার ও অধিকারও থাকে না।
খালেদা জিয়া বলেন, ৫ই জানুয়ারির কলঙ্কিত ও প্রহসনের নির্বাচনের আগে ভারতের তদানীন্তন সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে খুবই ন্যক্কারজনকভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। দেশটির বিদেশ সচিব প্রহসনের নির্বাচনের নীল-নকশা বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের অধিকাংশ নাগরিক মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ভারতের বিগত সরকারই আওয়ামী বলয়ের শাসন ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে সরাসরি সহায়তা করেছে। তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই এদেশের জনবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। তিনি বলেন, এদেশের জনগণ মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি বা করেনি। তারা কেবল কৃতজ্ঞতার ঋণই ক্রমাগত শোধ করে চলেছে। বিসর্জন দেয়া হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা। খর্ব হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন- এই সফরে তিনি তৃপ্ত। কিন্তু দেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত তো নয়ই বরং আতঙ্কিত। দেশের মানুষ হিসাবের পাওনা চেয়েছিল, জাতীয় স্বার্থবিরোধী একগাদা চুক্তি ও সমঝোতা নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনো চুক্তি ও সমঝোতা সই না করতে প্রকাশ্যেই জোরালো মতামত দিয়েছিল। নাগরিকদের মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্যও গড়ে উঠেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের মতামতের প্রতিধ্বনি করে আমরাও এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর না করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সবার মতামতকে উপেক্ষা করে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।  এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দেশের জনগণের সঙ্গে আমরাও শঙ্কিত। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের জন্য গুম, খুন, নির্যাতন, জেল, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েও সাধ্যমতো আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অনেক বিষয়েই ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে আমরা সকলে মিলে একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের পক্ষে। খালেদা জিয়া বলেন, ভারত সফরকালে শেখ হাসিনা এসব বিষয় সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা পালন করলে আমরা অকুণ্ঠ চিত্তে তার সেই ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানাতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তিনি বাংলাদেশকে ভারতের সামরিক পরিকল্পনার অংশ করে এসেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। সে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে আমরা বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাবলী নিরসনের নীতিতে বিশ্বাসী। ভারতের জনগণের সঙ্গে শান্তি ও সহযোগিতার আবহে আমরা পাশাপাশি বাস করতে চাই। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ব্যাহত করতে ভারতের বিগত শাসকদের একতরফা ভূমিকায় বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আশা করি ভারতের বর্তমান সরকার অতীতের সেই ভুল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের মনোভাবের প্রতি সম্মান দেখাবেন। গণবিচ্ছিন্ন কোনো পক্ষের সঙ্গে কোনো চুক্তি করা বা চাপিয়ে দেয়াই বড় কথা নয়। মানুষের সমর্থন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা চুক্তিই যে কেবল গায়ের জোরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় তার প্রমাণ নিকট ইতিহাসেই রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘শান্তিচুক্তি’ নামে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘকাল একটি কাগুজে দলিলে পর্যবসিত হয়েছিল। তাই জাতিকে অন্ধকারে রেখে, জনগণের মতামত যাচাই না করে দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চুক্তি বা সমঝোতা করে অবিশ্বাস আরো ঘণীভূত করা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ভাটির দেশ হিসাবে সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এটা দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার বিষয় নয়। তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যকার বিষয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় সংশ্লিষ্ট করায় বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে দেয়া ৫০ কোটি ডলারের সহায়তার আওতায় ভারত কি ধরনের সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে জানতে চাওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন- ‘এখনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে বাংলাদেশের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’ এতেই বোঝা যায়, শেখ হাসিনা যাই বলুন না কেন ভারতই হবে ওই ঋণের আওতায় একমাত্র অস্ত্র সরবরাহকারী। খালেদা জিয়া বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যেভাবে ভারতের সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে তার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস, কারিকুলাম ও অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়াদি অযাচিত হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করার কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত যে এন্টি-ডাম্পিং ক্লজ প্রয়োগ করে তা তুলে নেয়ার ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী কিছুই করতে পারেননি। দু’দেশের যৌথ ইশতেহারে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও এই প্রতিশ্রুতি অতীতের মতোই অন্তঃসারশূন্য হয়ে থাকবে বলে দেশবাসীর মতো আমাদেরও আশঙ্কা। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ব্যাপারে ভারতের সম্মতি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনা এখন এই প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এখন আরো পিছিয়ে গিয়ে প্রকল্পটির স্থান পরিবর্তন এবং নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভারতীয় প্রস্তাব তিনি মেনে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশে জনসমর্থিত ও গণতান্ত্রিক কোনো সরকার না থাকলে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের কাছ থেকে জাতীয় স্বার্থ আদায় করে আনা সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ সরকার যতই বন্ধুত্বের বুলি আওড়াক না কেন, প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকেও সমমর্যাদার ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে তারা পারেনি, পারবেও না। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি দিল্লিতে কিছু চাইতে যাননি। কেবল বন্ধুত্বের জন্য গিয়েছিলেন এবং সেটা তিনি পেয়েছেন। কিসের এই বায়বীয় বন্ধুত্ব তা দেশবাসীই বিচার করে দেখবেন। তবে এ কথার মাধ্যমে শেখ হাসিনা মেনে নিয়েছেন, ভারত থেকে তিনি দেশের জন্য কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। বরং ভারতের চাহিদা মোতাবেক সবকিছুই দিয়ে এসেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তাদের সরকারের উদ্যোগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। জিয়াউর রহমান সশস্ত্রবাহিনীকে আধুনিক করে গড়ে তুলেছিলেন। আমাদের সশস্ত্রবাহিনী এখন বিভিন্ন দিক দিয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চমান অর্জন করেছে।  কোনো অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে এই বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করলে সেই মানের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। এছাড়া পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি রয়েছে। এক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার ফলে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত মান ও স্বাতন্ত্র্য সমঝোতার নামে ব্যাহত হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতিকে এক্সপ্লয়েট করার জন্য শেখ হাসিনা ভারত সফরের আগে আলেম সম্মেলন করেন। ফিরে এসে হেফাজতে ইসলাম প্রভাবিত কওমি মাদ্‌রাসার ওলামায়ে ক্বেরামদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলেমদের সঙ্গে তার অতীত আচরণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ক্রমাগত আঘাতের কথা দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। এখন তিনি নিজেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। ২০০৬ সালে কওমি মাদ্‌রাসা সনদের স্বীকৃতি আমাদের সরকার দিয়েছিল। সেটা গেজেট নোটিফিকেশনও হয়েছিল। গত ১১ বছরে মাদ্‌রাসা-বিরোধী সরকারগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বিষয়টি আর এগুতে পারেনি। খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশিরা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে চক্রান্ত করেছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আবারও সম্পূর্ণ অসত্য অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে কিন্তু কোনো প্রভু নেই। বিদেশি চক্রান্তে নয়, জনগণের ভোটেই বিএনপি সবসময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বরং আওয়ামী লীগই ভোট ছাড়া বিদেশি মদত নিয়ে ক্ষমতায় আসার খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেখ হাসিনার অভিযোগের জবাবে আমি বলতে চাই, সশস্ত্রবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিএনপি কখনো ব্যবহার করেনি। তারাই করেছেন। তারা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল-এর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এরশাদ ও মঈনের ক্ষমতা দখল এবং জেনারেল নাসিমের সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় তারাই প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন।
বিএনপি আমলে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীন একটি অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। তাদের অস্ত্রের গুণগত মান ভালো। চীনের অস্ত্র ব্যবহারে আমরা অভ্যন্ত। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের মতামত ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই চীনের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা রিভিউ করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী যে কোনো চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি’র প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে শীর্ষ দুই দলের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা কারও হস্তক্ষেপ চাই না। আমরা চাই জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাক এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার ক্ষমতায় আসুক। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে যেদিন হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল সেদিন আমরাও তার প্রতিবাদ করেছি। সেই প্রতিবাদ সভায় আমিও ছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি। কারণ তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন না। তিস্তা চুক্তি নিয়ে সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টন আমাদের প্রধান সমস্যা। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করতে চায়। অধিকার আদায়ে দেশের মানুষকে এর প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাই জনগণের তিস্তা চুক্তি আন্দোলনে আমরা পাশে থাকবো। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের দিল্লি থেকে আনা লাড্ডু দিয়ে সাংবাদিকদের আপ্যায়ন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়া তার সংবাদ সম্মেলন শেষে বলেন, ‘সাংবাদিক ভাই-বোনেরা আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। আপনাদের জন্য আমি সামান্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছি। কালকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিল্লির লাড্ডু খেয়ে এসেছেন। আজকে আপনাদের আমি বাংলাদেশের লাড্ডু খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। আপনারা খেয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, মীর নাসির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, রুহুল আলম চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাউয়ুম, শামা ওবায়েদ, ২০ দলীয় জোটের দলগুলোর নেতা মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, শফিউল আলম প্রধান, আন্দালিব রহমান পার্থ, টিআইএম ফজলে রাব্বী, আবদুল হালিম, এমএ রকীব, আবদুল করীম, আবদুল করীম আব্বাসী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জেবেল রহমান গনি, আজহারুল ইসলাম, আবু তাহের চৌধুরী, গরীবে নেওয়াজ, সাঈদ আহেমেদ, মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শফিকউদ্দিন ও সাইফুদ্দিন মনি উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর