সাইফুর, রণি, রবিউল, তারেক, অর্জুন ও মাহফুজুরে (বা থেকে)। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) সিলেটের এমসি কলেজ থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মীর নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এখন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তবে তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও কলেজটিতে ইংরেজিতে মাস্টার্সে অধ্যয়রত শাহ মাহবুবুর রহমান রণি, একই বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাছুম, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ও তারেক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাছুম, এম সাইফুর রহমান, অর্জুন, রাজন আহমদ এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল এবং তারেক আহমদ।

এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রণি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা।

জানা গেছে, গণধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার মধ্যরাতে ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কয়েকটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি পাইপগান, চারটি রামদা এবং দুটি লোহার পাইপ রয়েছে।

তবে স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথম দিকে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা আপোষেরও চেষ্টা চালান। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের কারণে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিতে সক্ষম হন। অবশ্য পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ধাপাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ান আওয়ামী লীগ নেতারা।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকার যোগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন ওই তরুণী। সন্ধ্যা হয়ে এলে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের ছয় কর্মী মিলে স্বামীসহ তরুণীকে তুলে নেন পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে। পরে তারা স্বামীকে বেঁধে মারধর করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে ওই তরুণী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। -ডেস্ক