(দিনাজপুর২৪.কম) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল (৩০) নিজ বাড়িতে কারো গুলিতে নয় নাজমুল নিজের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩১মে) বেলা ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান এ দাবি করেছেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন নাজমুলের পরিবারও।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নাজমুলের বাবা আলতাফ হোসেন, মা নাজমা খাতুন ও সদ্য বিবাহিত স্ত্রী উর্মি খাতুন।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, হতাশা থেকে নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে কি কারণে নাজমুল হতাশ ছিল তা বলতে পারেননি পুলিশ সুপার।এ ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এসপি মেহেদী হাসান বলেন, আত্মহত্যার ঘটনার পর মা নাজমা খাতুন ছেলের ঘরে একটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি শটগানের গুলি দেখতে পান। ঝামেলা হতে পারে ভেবে এগুলো তিনি ব্যাগে করে বাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখেন। নাজমুল কেন, কী কারণে হতাশায় ছিলেন, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাজমা খাতুন বলেন, ‘এটা জানিনা।’

এসপি মেহেদী হাসান বলেন, অস্ত্র দুইটি অবৈধ। ঘটনার পর একটা তাজা গুলি উদ্ধার হয়েছিল। নাজমা খাতুনের দেখানো জায়গা থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার পেছনে নাজমুলের হতাশাটা কী ছিল, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসপি বলেন,‘তিনদিন পর জানতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নিজের বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলমের (২৭) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া শহরসংলগ্ন হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ফারাজীপাড়ার আলতাব হোসেনের ছেলে। নাজমুল নিহত হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তার নববিবাহিতা স্ত্রী ঊর্মি খাতুনও ওই কক্ষেই ছিলেন। নাজমুল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৫ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। নাজমুল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। বাবা-মা ও বোনদের নিয়ে একই বাড়িতে থাকতেন নাজমুল। -ডেস্ক