(দিনাজপুর২৪.কম) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ছাত্রলীগ অন্যায় করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বিভ্রান্তিতে ভুগবেন না। দয়া করে কেউ কোনো দুষ্কর্ম করবেন না।শনিবার (২৪ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলোকচিত্রে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ দুষ্কৃতি করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই আপনারা কখনও দুষ্কৃতি করবেন না, যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘মার্চ মাস বাঙালির স্বাধীনতার মাস। বাঙালির গৌরবের মাস। বাঙালির জাতির জনকের জন্মের মাস। এ মাসেই তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে তৎকালীন বাঙালির সব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছিলেন। এই বক্তব্যের মধ্যেই তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তার এ বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনোকিছু না ভেবে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা সবাই উপলব্ধি করছি বাংলাদেশ পরিবর্তন হয়েছে। এর জন্যে সততা, নেতৃত্ব এবং দূরদর্শিতার দরকার।এর কোনওটিই বিএনপির ছিল না। ফলে বাংলাদেশ বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এখনও চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। কেননা দেশনেত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে। আমরা দেশের সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাবো- এটাই প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা। আমরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উদাহরণ দিই সব সময়, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতো।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে। আগামী নির্বাচনে জনগণ অন্ধকারে যাবে না। এই নির্বাচনে ছাত্রলীগকে ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা বলতে হবে। এই দায়িত্ব নিতে হবে ছাত্রলীগকে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যকে অত্যন্ত লজ্জাজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সময়ে আমরা বিশ্বে দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলাম। বিএনপি সরকারের অদক্ষতা, অসততা ও দুর্নীতিপরায়ণতার কারণে দেশের দুর্নাম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃতে দিন দিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ মূলত স্বাধীনতার অর্জন। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, একটি পতাকা দিয়েছেন, আমাদের পরিচয় দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিসহ সব বিষয়ে মুক্তি, সেটি বঙ্গবন্ধুর। ১৯৭১ সালে সংগ্রাম করে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি, সে সংগ্রাম এখনও চলছে। সে সংগ্রাম হলো দারিদ্র্য থেকে মুক্তির সংগ্রাম।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে সরকার বদল হয়নি, রাষ্ট্র বদল হয়েছে। রাষ্ট্রকে পাকিস্তানে রূপান্তর করা হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। -ডেস্ক