(দিনাজপুর২৪.কম) ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে দেশে ফিরে মাশরাফি চোখ রেখেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। বলেছিলেন দারুণ কিছু অর্জনের কথা। সেই স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হয়েছে। প্রথমবারের মতো আইসিসির টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলেছে দল। তাতে জিততে না পারলেও এই প্রাপ্তি কম নয়।  এই সাফল্যের পর মাশরাফির চোখ এখন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপে। গতকাল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাশরাফি তো শোনালেন সেই স্বপ্নের কথাই। তিনি বলেন, ‘এখন সময় সবদিক থেকে নিজেদের আরো এগিয়ে নেয়ার। ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই তৈরি হওয়া উচিত। সেটা মানসিক, ফিটনেস ও পারফরম্যান্স; সবদিক থেকেই তৈরি থাকতে হবে।’
১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা বাংলাদেশ মুখিয়ে ছিল কিছু করে দেখানোর জন্য। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, সফরে সব মিলিয়ে পাওয়া তিন জয়ে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে থাকা দলটির চেয়ে অনেক পিছিয়ে নয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে ২০১৯ বিশ্বকাপে। তাই মাশরাফি দেশে ফিরেই দলের ক্রিকেটারদের তৈরি হতে বলেছেন বিশ্বকাপ মিশনের জন্য। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে আরো অনেক ভালো করার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মিশনের শেষ মুহূর্তে মাশরাফি বিন মুর্তজার ভালো কাটেনি।
শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অনেক স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। কিন্তু ৯ উইকেটের হারে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলাকেই বড় অর্জন বলে দাবি করলেন অধিনায়ক মাশরাফি। তাই সামনের দিনগুলোতে এই স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে চান তিনি। মাশরাফি বলেন, ‘ভালো লাগছে। তারপরও খারাপ লাগা তো আছেই। যেহেতু ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। সুযোগ তো ছিলই। কারণ, নকআউট পর্যায়ে খেলায় সুযোগ সবসময় থাকে। কিন্তু আমরা সুযোগটা নিতে পারিনি। সামনে অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, সিরিজ আছে। আশা করি এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে ভালো করবে বাংলাদেশ। ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে পেছনে ফেলে আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
২০১৫ বিশ্বকাপের পরফরম্যান্সের চেয়েও অর্জনের দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে এগিয়ে রাখলেন টাইগার অধিনায়ক। সেবার কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল দল। কাকতালীয়ভাবে এবারো ভারতের বিপক্ষে হেরে সেবারের মতো বিদায় নিতে হয় টাইগারদের। তবে এটাই সেরা সাফল্য উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘বিশ্বকাপ  তো বিশ্বকাপই। তার সঙ্গে অন্যকিছুর তুলনা চলে না। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সবচেয়ে কঠিন। গ্রুপ পর্ব পার করাই অনেক কঠিন। সেখানে তো আমরা সেমিফাইনালে খেলেছি। ২০১৫ বিশ্বকাপ অর্জনের চেয়ে আমি চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির এ সাফল্যকেই এগিয়ে রাখবো।
সেই ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিল টাইগাররা। শুরুতে অনুশীলন ক্যাম্প, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ ফের ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলে গতকালই দেশে ফিরেছেন তারা। তবে দলের সঙ্গে এদিন ফিরেননি টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। আসেননি সাকিব আল হাসানও তবে গতকালই তার ফেরা কথা।
ইংল্যান্ড থেকে গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা ৪০ মিনিটে শাহ্‌জালাল বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল তামিম ইকবালদের। বিমান অবতরণে দেরি হওয়ায় তারা নেমেছেন নয়টা ৪৫ মিনিটে। সর্বশেষ ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফিরেছে বীরের বেশে। সেবারও সামনে নতুন কিছু করার শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। কথা রেখেছেন তারা, এবার এক ধাপ এগিয়ে দেশে গর্বের ইতিহাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন। লম্বা এই সফরে দেশের ক্রিকেট এখন স্পর্শ করেছে নতুন উচ্চতা। প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ পৌঁছেছে ছয় নম্বরে। খেলেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনালে। আইসিসি’র কোনো টুর্নামেন্টে এটাই তাদের প্রথমবারের মতো শেষ চারে খেলা। এর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাই ছিল টাইগারদের বড় অর্জন। ডেস্ক