(দিনাজপুর২৪.কম)চেক প্রতারণার একটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক এবং গণআন্দোলনের নেতা রফিউর রাব্বিকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদ এ রায় দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি রফিউর রাব্বিকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় রফিউর রাব্বি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছের ফিউর রাব্বির আইনজীবীরা।
রফিউর রাব্বি ২০১৩ সালের ৬ মার্চ খুন হওয়া নারায়ণগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা। তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা মামলার বাদি জালাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মামা শ্বশুর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়ি এলাকার আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ১১ শতাংশ জমির পাওয়ার অব এ্যাটর্নি মূলে মালিক হন। ২০০২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রফিউর রাব্বি ওই জমি তার ব্যবসায়িক অংশীদার ফখরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। ২০১০ সালের ২৬ জুলাই ৪২ লাখ টাকায় ওই জমি শামীম ওসমানের মামা শ্বশুর জালাল উদ্দিন ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে কিনে নেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, জমিটি কেনার পর জালাল উদ্দিন তা নিজের নামে নামজারি করান। কিন্তু ওই সময় দলিল উদ্দিন নামে অপর এক ব্যক্তি জমিটির ওয়ারিশ দাবি করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এসিল্যান্ড অফিসে জালাল উদ্দিনের নামে হওয়া জমির নামজারি বাতিলের জন্য মিস কেইস দায়ের করেন।
রফিউর রাব্বির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, এসিল্যান্ড অফিসে জালাল উদ্দিনের নামজারি বাতিলের জন্য মিস কেইস হওয়ার পর জালাল উদ্দিন স্থানীয় ভাবে একটি শালিস বৈঠক ডাকেন। শালিস বৈঠকে জমির ক্রেতা জালাল উদ্দিন, জালাল উদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদুর রউফ, জমির বিক্রেতা ফখরুল ইসলাম এবং ফখরুল ইসলামের কাছে জমির বিক্রেতা রফিউর রাব্বি উপস্থিত ছিলেন। ওই শালিসে রফিউর রাব্বি জমিটি তার নামে ফিরিয়ে দেবার শর্তে জমির বর্তমান মূল্য ৭০ লাখ টাকা ধার্য করে তার পরিশোধের অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী জমিটি রফিউর রাব্বির নামে ফিরিয়ে দেবার আগে জামানত হিসেবে তিনি ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিজ হিসাবের বিপরীতে ৪০ লাখ টাকার একটি চেক এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি একই ব্যাংকের হিসাব নম্বরের বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার আরো একটি তারিখ বিহীন চেক জালাল উদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদুর রউফের কাছে জমা দেন। কিন্তু শালিস বৈঠকের শর্ত ভঙ্গ করে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রউফ ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চেক দুটি ক্যাশ করার জন্য ব্যাংকে জমা দেয়। ওই চেক দুটি ২০ ফেব্রুয়ারি ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে। অ্যাডভোকেট মাসুদুর রউফ ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি টাকা পরিশোধের জন্য রফিউর রাব্বিকে উকিল নোটিশ প্রেরণ করেন। ওই বছরের ১ মার্চ রফিউর রাব্বি সেটি গ্রহণ করেন। ওই বছরের ৩০ মার্চ নোটিশ অনুযায়ী টাকা পরিশোধের সময়সীমা শেষ হলে এপ্রিল মাসে জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা করেন।
রফিউর রাব্বির আইনজীবীরা দাবি করেন, রাব্বি চেক দুটি দিয়েছিলেন জামানত হিসেবে। জমিটি রাব্বির নামে ফিরিয়ে দেবার পরেই ওই টাকা দেবার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে জামানত হিসেবে দেওয়া চেক ব্যাংক থেকে ডিজঅনার করিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। অথচ এখনো ওই জমি জালাল উদ্দিনের নামেই রয়েছে।
রাব্বির আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবো। সেজন্য মূল টাকার অর্ধেক ৩৫ লাখ টাকা আগে আদালতে জমা দিতে হবে।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে রফিউর রাব্বির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, আদালতে রাব্বির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ দণ্ড প্রদান করেছেন।
মামলায় বাদি পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রউফ, অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ। অন্যদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন- অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
(ডেস্ক)