(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের কাছে ১৩০০০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়েছে জার্মানি। করোনা মহামারির জন্য বেইজিংকে দায়ী করে সর্ববৃহৎ জাতীয় পত্রিকা ‘বিল্ড’-এ প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে এমন দাবি জানানো হয়েছে। একই কারণে এরই মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। তার সঙ্গে যোগ দিলো জার্মানি। তাদের দাবি, চীনের উহান থেকেই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি এবং বিষয়টিকে চীন ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছিল। এ ছাড়া তারা করোনায় মৃতের সংখ্যাকে অনেক কম করে দেখিয়েছে। এরই মধ্যে উহানের একটি ল্যাবরেটরি থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে- এমনটা  বিশ্বাস  নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘটনার সত্যতা পেলে চীনকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

লন্ডনের অনলাইন এক্সপ্রেস লিখেছে, শনিবার ট্রাম্প চীনের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, করোনা মহামারি ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে যদি চীনকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দায়ী’ পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তিনি আরো বলেছেন, এই ভাইরাসকে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চীনে তার বিস্তার বন্ধ করা যেতো। কিন্তু তা করা হয় নি। এর জন্য সারাবিশ^ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যদি এক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকে, ভুল তো ভুলই। কিন্তু তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে থাকে তাহলে তাদেরকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ বিষয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছে চীন। এখন প্রশ্ন হলো, এই ভাইরাস ছড়িয়েছে ভুলবশত কিনা, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, অথবা তারা কি এই ভাইরাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দিয়েছে কিনা?

এতে পর্যটনখাতে ২৭০০ কোটি ইউরো বা ২৩৫২.০২ কোটি পাউন্ড ক্ষতি দেখানো হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পে ৭২০ কোটি ইউরো বা ৬২৭.২১ কোটি পাউন্ড, জার্মানির বিমান সংস্থা লুফথানছায় ঘন্টা প্রতি ১০ লাখ ইউরো বা ৮৭ লাখ পাউন্ড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় ৫০০০ কোটি ইউরো বা ৪৩৫৫.৬০ কোটি পাউন্ড ক্ষতি দেখানো হয়েছে। ‘বিল্ড’-এর হিসাব মতে, এই ক্ষতি জার্মানিতে যদি জাতীয় প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪.২ ভাগ পতন হয়, তাহলে মাথাপ্রতি ক্ষতি হবে ১৭৮৪ ইউরো বা ১৫৫০ পাউন্ড। এ নিয়ে ‘বিল্ড’-এর সংবাদ শিরোনাম ‘হোয়াট চায়না ওউস আস’। অর্থাৎ আমাদের কাছে চীনের যে ঋণ।

এই ইনভয়েসের বিষয়ে চীন বলেছে, এর মধ্য দিয়ে অহেতুক বিদেশভীতি এবং জাতীয়তাবাদ উস্কে দেয়া হচ্ছে। তবে চীনের এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যন করেছেন ‘বিল্ড’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান রিচেল্ট। তিনি বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্ব  যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার ক্ষতিপূরণ চীন দেবে কিনা সেটা আমাদের পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছি। শি জিনপিং, আপনার সরকার এবং আপনার বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই জানতেন যে, করোনা ভাইরাস অতিমাত্রায় সংক্রামক। কিন্তু আপনি বাকি বিশ্বকে অন্ধকারে রেখেছেন এ বিষয়ে। যখন পশ্চিমা গবেষকরা জানতে চেয়েছেন উহানে কি কাজ হচ্ছিল, তখন আপনার শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা এর কোনো উত্তর দেন নি। প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করতে আপনি খুব গর্বিত ছিলেন এবং বিষয়টিকে খুব বেশি জাতীয়তাকরণ করেছেন।

বিষয়টিকে আপনি জাতীয়ভাবে অবজ্ঞা করেছেন।’ -ডেস্ক