দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে স্কুল এন্ড কলেজের  গভর্নিং বডির  প্রথম বৈঠকে দুই শিক্ষক প্রতিনিধি রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর না করায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ৪-৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত বাহিনী ওই শিক্ষকদের হুমকি ধামকি চাকুরীচ্যুতসহ বিদ্যালয় অফিস কক্ষে  ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় শিক্ষিকা রুপালী রানী রায়ের স্বামী নীলমনি রায় বাদী হয়ে সভাপতি কাজী ইকবাল হোসেন অধ্যক্ষ শ্যামলী রানী চক্রবর্তীসহ ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে চিরিরবন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, গত রোববার দুপুর ১২টায় উপজেলার কুতুবডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভার প্রথম বৈঠকের আলোচনা চলাকালে শিক্ষক প্রতিনিধি রুপালী রানী রায় ও আব্দুল কুদ্দুস রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর না করায় সভাপতি কাজী ইকবাল হোসেন ও অধ্যক্ষ শ্যামলী চক্রবর্তী তাদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সভাপতির সমর্থিত দেড় শতাধিক লোকজন স্কুল ঘেরাও করে শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসকে মারধর ও  রুপালী রানীকে লাঞ্চিত করে ও তাদের অফিস কক্ষে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে চাপের মুখে অবরুদ্ধ ওই দুই শিক্ষক অবশেষে রেজুজেশন বহিতে স্বাক্ষর  করে। সংবাদ পেয়ে  চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে। সভাপতি কাজী ইকবাল হোসেন ও অধ্যক্ষ শ্যামলী রানী চক্রবর্তী জানান, গত ৩ মে স্কুল গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কোন এক অদৃশ্য শক্তির আশির্বাদপুষ্ট হয়ে সভাপতি হিসেবে কাজী ইকবাল হোসেন ওই বডির মনোনীত হয়ে ২৭ জুলাই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে তা অনুমোদন হয়। অনুমোদিত গভর্নিং বডির প্রথম বৈঠকে শিক্ষক প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস ও রুপালী রানী রায় রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে কিছুটা বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। তারা আরও জানান, ৬নং অমরপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী শাহ সভাপতি হতে  না পেরে শিক্ষক ও কিছু অভিভাবক সদস্যকে বিভিন্ন  প্রলোভনে গভর্নিং বডিকে অকার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। অভিযোগ অস্বীকার করে  চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী শাহ বলেন, যদি গভর্নিং বডিকে অকার্যকর করার পরিকল্পনা করা হতো তাহলে সৃষ্ট ঘটনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিতো। এ ব্যাপারে শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ও রুপালী রানী রায় জানান, লাঞ্চিত ও মারধরের ঘটনা ঘটার পরও সভাপতি ও তার লোকজন নানামূখী হুমকি প্রদান করেছে। রাতে ওই শিক্ষক চিরিরবন্দর থানায় আলাদা আলাদা জিডি করেছে বলে জানা গেছে।