chirirbandar-badsha-photo-17-11-2016দেলোয়ার হোসেন বাদশা (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের চিরিরবব্দর উপজেলার অধিকাংশ কৃষক শীতের সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে  ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় উঠে পড়ে লেগেছেন। এসব কৃষকরা  সকাল হলেই পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভটভটি ভ্যানে সবজি বোঝাই করে  গ্রামের পথ ধরে  হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছে শীতের সবজি। কেনাবেচা ভালো হওয়ায় তাদের চোখেমুখে আনন্দের হাসি চোখে পড়ার মতো। ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করে একের পর এক লোকসান গুনে এবার শীতের সবজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষকেরা। উপজেলার সাইতীড়া, ইসবপুর, সাতনালা , আউলিয়াপুকুর ,পুনট্টি, ফতেজংপুর, আব্দুলপুর ও ভিয়াইল ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপক সবজি চাষ করা হয়েছে। উপজেলার বাংলাবাজার, খোচনা, দুর্গাডাঙ্গা, আব্দুলপুর, কালীতলা, বেলতলী, বিন্যাকুড়ি, জোতসাতনালা প্রভৃতি এলাকায়  দিনরাত সবজির নিবির পরিচর্যা করছেন কৃষকেরা। কেউকেউ পোকামাকড়  দমনে কেউবা কৃষি লোক লাগিয়ে সবজির পরিচর্যা করেছেন। সাতনালা এলাকার চাষি মো: মুকুল, জাকির হোসেন ও মতিয়ার হোসেন বলেন, কযেক বছর ধরে ধান চাষে আমরা কৃষকেরা ভালো দাম না পাওয়ায় শীতের সবজি আবাদ করে দুটো টাকার মুখ দেখছি । আমরা এই এলাকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। লালশাক, পালংশাক, শিম, টমেটো, বেগুন, লাউ, শসা, চিচিঙ্গা, পটোল, ঢেড়স, কাঁচা মরিচ ,মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, বাধাকপি, ফুলকপি, ধনেপাতা , মুলা, করলা, ডাঁটা, প্রভৃতি সবজিতে ভরে গেছে পুরো এলাকা। চিরিরবন্দর রাণীরবন্দর ও বিন্যাকুড়ী বাজারের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, ধনেপাতা ১৫০ টাকা, সরিষাশাক ২০ টাকা,লাউ ৪০ টাকা, মুলাশাক ১০ টাকা, ও মুলা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এখানকার পাইকারি বাজার থেকে কিনে খুচরা দোকানিরা কেজিতে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা লাভ করছেন। অথচ পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের দূরত্ব মাত্র ২০০ গজ। এ ছাড়া এই বাজার থেকে পাইকাররা শীতের সবজি কিনে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। রাণীরবন্দর সুইয়ারী বাজারের পাইকারি আড়তদার মো: মুছা বলেন, চাষিরা সরাসরি এই বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারে না। তাঁরা সবজি প্রথমে পাইকারি বাজারে নিয়ে আসেন, তারপর আড়তদাররাই চাষির সবজি কিনে অথবা বিক্রি করে দেন। বিনিময়ে আড়তদাররা পণ্য অনুযায়ী কমিশন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কৃষকের গুনতে হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহামুদুল হাসান জানান ,গত বছর চিরিরবন্দরে রবি শস্য অর্জিত হয়েছিলো ৫৪৬ হেক্টর জমিতে। এবারে শীতের শুরুতেই অর্জিত হযেছে ৫২৬ হেক্টর জমি যা গত বছরের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া তিনি বলেন ,চিরিরবন্দর উপজেলায় বেশী ভাগ জমি উচুঁ ও সমতল। তাই সবজি চাষের জন্য এসব জমি বিশেষভাবে উপযোগী। ধান ও অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করে কৃষকরা তাদের ভাগ্য বদলাতে পারেননি। ফলে চলতি মৌসুমে সবজি চাষ করা হয়েছে। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন এবং ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন।