(দিনাজপুর২৪.কম) চালের মজুত বাড়াতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে সরকার। জিটুজি পদ্ধতি ও দরপত্র প্রক্রিয়া দুইভাবেই তৎপরতা চালাচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এ পর্যন্ত খুব বেশি সুখবর মিলছে না। সর্বশেষ ভিয়েতনামের কাছ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে গুদামে অভিযান, শুল্ক কমানোসহ নানা তৎপরতায় চালের দামের তেজিভাব থামলেও এখনো স্বস্তি ফিরেনি খুচরা বাজারে। অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান চলায় ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি ও মজুতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযানে ধরা পড়ার ভয়ে অনেক মজুতদার গুদাম থেকে চাল অন্যত্র সরিয়ে রাখছেন। আবার নতুন করে আমদানিও করছেন না। এতে বর্তমান মজুত আরো নিচে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাল ও গম কেনা নিয়ে তাদের দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে চাল ও গম কিনতে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশ সফর করে এসেছেন তারা। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল কিনেছে সরকার। কয়েক মাস আগে চুক্তিকৃত এসব চাল দেশে এসে পৌঁছেছে। মজুত বাড়াতে আবারো চাল আমদানির জন্য ভিয়েতনামের সঙ্গে যোগাযোগ
করা হয়েছে। তবে এখন প্রথম দফার চেয়ে টনপ্রতি ৪০ ডলার বেশি মূল্য দাবি করেছে ভিয়েতনাম। আগে সিদ্ধ চাল ৪৭০ ডলারে দিলেও এখন বলছে টনপ্রতি ৫১০ ডলারের কমে দেয়া যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আগের মূল্য অনুযায়ী সরবরাহের কথা বলা হলেও তাতে সায় দেয়নি ভিয়েতনাম। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। তবে ভিয়েতনাম মূল্য পুনঃনির্ধারণ নিয়ে কয়েক দিন সময় চেয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গেল সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন ভিয়েতনামের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের জিটুজি সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠকে তারা প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৫২০ ডলার ও আতপ চাল ৪৬০ ডলার দাবি করা হয়। যদিও কয়েক মাস আগে তারা প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৪৭০ ডলার ও আতপ চাল ৪৩৫ ডলারে সরবরাহ করেছে। তাই নতুন করে বেশি দাম চাওয়ায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আতপ ও সিদ্ধ চালের দরদাম ঠিক করতে গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা দেশে আসেনি। যদিও এরই মধ্যে থাইল্যান্ড তাদের চাল আমদানির শর্ত ও মূল্য বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে। তারা ৫ শতাংশ ভাঙা সিদ্ধ চাল প্রতি টন ৪৮৫ ডলার, আতপ ৪৬০ ডলার এবং ১৫ শতাংশ ভাঙা আতপ ৪৫০ ডলার দাম চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাদের শর্ত ও মূল্য মানলে অক্টোবরে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানির চুক্তি হতে পারে। এর আগে গত জুন মাসে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে টনপ্রতি সিদ্ধ চাল ৫০৮ ডলার দাবি করেছিল। বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাবে সায় না দেয়ায় ওই সময় আমদানি চুক্তি হয়নি। তবে চালের মজুতজনিত ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাল আমদানি নিয়ে গত ১৭ ও ১৮ই সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত নয় সদস্যের টিম বৈঠক করে। ওই বৈঠকে জিটুজি পদ্ধতিতে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির চুক্তিনামার শর্ত এবং মূল্য নিয়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন হয়। আলোচনা ও নেগোসিয়েশন শেষে এক লাখ টন আতপ চাল প্রতি টন ৪৪২ ডলার দরে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এগ্রিড মিনিটস অফ দ্য মিটিং স্বাক্ষর করে। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল কেনার আগ্রহ দেখানো হলেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ওই চালের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আতপ চাল কেনার ব্যাপারে রাজি হয়। চাল আমদানি সংক্রান্ত ওই বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগবে। চাল আমদানির বিষয়ে চুক্তি হতে ১৫-২০ দিন লাগতে পারে। চুক্তির পর এলসি খোলা হবে। তারপর চাল আসবে। মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠকের পর ১১ দিন কেটে গেছে। এখনো মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি হয়নি। এদিকে দুই দফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি চালের মজুত তলানিতে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে সরকার গত অর্থবছরের শেষদিকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি উৎসাহিত করতে ২৬ শতাংশ থেকে শুল্ক নামিয়ে আনা হয় দুই শতাংশে। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা, ব্লাস্টরোগের কারণে সারা দেশে বোরোর ফলন কম হওয়া এবং ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণের কারণে চালের মজুত তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। এর সুযোগ নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের কারসাজিতে মোটা চালের দাম এখন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকা। তাই ৮ লাখ টন বোরো কেনার টার্গেট থাকলেও মিলারদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে আড়াই লাখ টনের। চালের এ ঘাটতি পূরণ ও দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ভারত ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সুযোগ বুঝে বাজার দরের চেয়ে টনপ্রতি ১০০ ডলার বেশি দাম হাঁকে। এরই মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ, কম্বোডিয়া থেকে আড়াই লাখ টন ও মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানির প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে।
চাল সরিয়ে রাখছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা: এদিকে অভিযানের মুখে গুদামজাত কিছু চাল বাজারে সরবরাহ করলেও বেশিরভাগ চালই অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন চট্টগ্রামের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। লুকিয়ে মজুত গড়ে তোলা এমন দুটি চালের গুদামের সন্ধান মিলেছে চট্টগ্রাম শহরের অদূরে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে পুরনো মর্ডাস ব্রিকস কারখানায়। গুদাম দুটি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন দুটি গুদামে তাদের ৬ হাজার ৮০০ টন চাল রয়েছে বলে জানান। খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভুঁইয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে চালসহ গুদাম দুটি সিলগালা করে দেন। আদালত সূত্র জানায়, কালাম ভাণ্ডারী ও মালেক মাঝির গুদাম হিসেবে পরিচিত গুদাম দুটিতে গোপনে চাল মজুত করা হয়েছে। গোপন সূত্রে এ খবর পেয়ে রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে বিপুল পরিমাণ চাল ও চালভর্তি ১৭টি কাভার্ড ভ্যান পাওয়া যায়।
কিন্তু মালিকপক্ষের কাউকে না পাওয়ায় গুদাম দুটি সিলগালা করে সব ধরনের গাড়িতে মালামাল তোলা ও নামানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। গুদাম দুটির সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, মালেক মাঝির একটি গুদামে চাল ও অন্যটিতে ডাল রয়েছে। কালাম ভাণ্ডারীর সবক’টি গুদামেই ভুসি। গত ৭-৮ দিনের বিভিন্ন সময়ে চালের গুদামে চাল প্রবেশ করলেও কোনো চাল বাইরে যায়নি। প্রশাসন সিলগালা করে তার দায়িত্বে বুঝিয়ে দিয়ে যান। তিনি বলেন, মর্ডাস ব্রিকসের মালিক আবুল কালামের কাছ থেকে গুদাম দুটি ভাড়া নেন চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স। সেখানে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে এনে চাল মজুত করেন। গোপনে এ চাল মজুত করেছেন কিনা তা তার জানা নেই বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন চালগুলো গোপনে লুকিয়ে রাখার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি (২৮ শতাংশ) ডিউটি ফি দিয়ে চাল আমদানি করেছে। তার মধ্যে প্রশাসনের অভিযানের চাপে চালগুলো নগরীর বিভিন্ন গুদাম থেকে বাইরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ডিও কাটি মালেক মাঝির নামে। তিনি তিন জায়গায় চাল রেখেছেন। তার মধ্যে সীতাকুণ্ডে ৬ হাজার ৮০০ টন চাল রেখেছেন। বাকিগুলোও নগরীর অন্য জায়গায় গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অভিযানের মুখে নগরীর কয়েকটি গুদাম থেকে বাজারে চাল সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছি। যা লোকসান দিয়েই দিচ্ছি। আমাদের মতো সব আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চাপের মুখে চাল সরবরাহ করলেও বেশিরভাগ চাল নগরীর বাইরে অন্যত্র সরিয়ে লুকিয়ে রাখছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের চাল আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নগর থেকে জেলা-উপজেলাসমূহে গুদাম ভাড়া নিয়ে গোপনে চাল সরিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফেনী, পটিয়া, আনোয়ারা, হাটহাজারীসহ যেখানে সড়ক যোগাযোগ ভালো সেখানে গোপনে চালের মজুত গড়ে তুলছেন। এসব গুদামে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টন চাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে চাল ব্যবসায়ীদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মানবজমিনকে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, প্রশাসন চাল নিয়ে চট্টগ্রামে যেভাবে বাড়াবাড়ি শুরু করেছেন তাতে জনগণেরই কষ্ট বাড়বে। ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে চাল বিক্রি করবে না। ফলে ইতিমধ্যে চাল আমদানিও করছে না। আগে আমদানি করা চালে লোকসান এড়ানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সীতাকুণ্ডে গুদাম সিলগালা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ কারণে চালভর্তি কাভার্ড ভ্যান থেকে চাল খালাস বন্ধ রয়েছে। সেখানে কয়েকটি কাভার্ড ভ্যান খালি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা গুদাম থেকে বেরুতে পারছেন না। কাভার্ড ভ্যানের চালক রবিউল হোসেন জানান, তিনি শুনেছেন অবৈধভাবে চাল মজুত করায় দুটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। ফলে তার কাভার্ড ভ্যান আটকা পড়েছে। কতদিনে এ কাভার্ড ভ্যান ছাড়াতে পারবেন সে আশঙ্কায় ভুগছেন তিনি। সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান বলেন, সীতাকুণ্ডে এত বড় গুদাম আছে, তা জানা ছিল না। গুদামটির কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। অবৈধভাবে সেখানে খাদ্যদ্রব্য মজুত করা হচ্ছে। গুদামটি সিলগালা করার পর সেখানে নির্ভরযোগ্য লোকের কাছে জিম্মায় রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। প্রসঙ্গত, হাওরে বন্যার পর থেকে সারা দেশের সঙ্গে চট্টগ্রামেও চালের মূল্য বেড়ে যায়। প্রথম দফায় দ্বিগুণ পরে চালের মূল্য আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার নড়েচড়ে বসে। ফলে অবৈধ মজুত ও চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর অভিযান শুরুর পর মজুত চাল জব্দ, গুদাম সিলগালা, অর্থ ও কারাদণ্ড প্রদানে মজুত ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় চাল ব্যবসায়ীরা। এতে চালের মূল্য বস্তাপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা কমে আসে। কেজিতেও ২-১ টাকা কমেছে। দাম আরো কমাতে খুচরা পর্যায়েও সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। এ অভিযানে সাধারণ মানুষের হতাশা কমলেও নানা রকম চালবাজিতে লিপ্ত রয়েছে চাল ব্যবসায়ীরা। তারা দফায় দফায় বৈঠক করে নানা হুমকি-ধমকি দিলেও তাতে সফল হননি। এরমধ্যে চাল আমদানিও বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি নগরে মজুত চাল গোপনে সরিয়ে লুকিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটছে।
চালের দাম কমেছে ভারত, থাইল্যান্ডে; বাংলাদেশকে রপ্তানিকারকদের হাতছানি
এই সপ্তাহে ভারত ও থাইল্যান্ডের বাজারে চালের দাম হ্রাস পেয়েছে। তবে এটি অঞ্চল দুটির শীর্ষ রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন এক সুযোগ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের সঙ্গে রপ্তানি চুক্তি করে সহজেই চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে দুই দেশের চালের বাজার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এই বছর বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে প্রধান চাল আমদানিকারক দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। দেশের বাজারে চালের দাম চড়া হওয়ায় বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাল কেনার চেষ্টা করছে। যাতে করে চালের দাম কমানো যায়। তিনি ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, আমরা ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে কিনতে পারি। -ডেস্ক