(দিনাজপুর২৪.কম) শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ শেষ হয়েছে। জঙ্গি আস্তানা থেকে রফিকুল ইসলাম আবুসহ চার জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আস্তানা থেকে এক নারী ও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর-চককীর্ত্তি ইউনিয়নের ত্রিমোহনী-শিবনগর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় দিনের মতো
‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ শুরু হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় অভিযান সম্পন্ন ঘোষণা করা হয়। অভিযান শেষে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশিদ আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অপারেশন ঈগল হান্ট শেষ হয়। নিহত আবু ছাড়া অপর তিন জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই চারজনই আত্মঘাতী হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নারী ও শিশু সম্পর্কে তিনি জানান, বিকাল সোয়া চারটার দিকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানায় পুলিশ। আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি। আহ্বানের পর একপর্যায়ে ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর বিকাল পাঁচটার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো কোনো অভিযানে এক নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ চলাকালে বিকাল ৫টায় আবুর স্ত্রী সুমাইয়া ও ৫টা ২৩ মিনিটে শিশুকন্যা সাদিকাকে উদ্ধার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত সুমাইয়া (২৭) ও দুই বছরের শিশুকন্যা সাদিকাকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জনই আহত হলেও আশঙ্কা মুক্ত বলে জানান চাঁপাই নবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. কাজী শামিম আহম্মেদ।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিল জানান, রাতের বিরতির পর সকালে আবার অপারেশন শুরু হয়। তবে সকাল ১০টা ৬ মিনিটে একটি বিকট শব্দ শোনা গেছে ওই বাড়ির ৪ শতাধিক গজ দূর থেকে। একইভাবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এরপরই বাড়িটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের যেতে দেখা গেছে। তার আগে দুপুর ১২টার দিকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে মাইকে আহ্বান জানায় পুলিশ। পাঁচ-ছয় মিনিটের এই আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি।
অভিযান চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ওই বাড়ির আশপাশের প্রায় ৬শ’ গজের ভেতর কাউকে যেতে দেয়নি। মোবারকপুর-চককীর্ত্তি ইউনিয়নের ত্রিমোহনী-শিবনগর গ্রামে ঘিরে রাখা সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে বুধবার সকাল থেকে ঘিরে রাখা আস্তানাটিতে সন্ধ্যায় সোয়াট সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরু করলেও দুই ঘণ্টা পরই স্থগিত করে। বুধবার রাত ৯টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তা উপ-পুলিশ কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার জানিয়েছিলেন, ওই বাড়ির ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয় এবং চার-পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।
শিবগঞ্জের যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয় তার প্রায় আধা কিলোমিটার দূরেই আবুর নিজের বাড়ি। পরিবারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে সাইদুলের মালিকানাধীন এই বাড়িতে বসবাস করছিল আবু। বুধবার সন্ধ্যার দিকে এই বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে সোয়াট। এ সময় সোয়াটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আবু  পুরোনো জেএমবির সদস্য। আবুর পরিবার ছাড়াও বাড়িতে আরো দুজন থাকতে পারেন বলে আগেই ধারণা করেছিল পুলিশ। বুধবার অভিযানকালে সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলি ও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। রাত নয়টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। -ডেস্ক