(দিনাজপুর২৪.কম): চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ডাকা হয়েছিলো অফিসে। চেয়ার-টেবিলে সাজানো কক্ষে নেয়া হচ্ছিলো ইন্টারভিউ। এটি শ্যামলী আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট। বাসা কাম অফিস। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ওই তরুণীকে তিন নম্বর সড়কের গলি থেকে লোক মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে। ইন্টারভিউয়ের নামে গল্প আড্ডায় কাটে বেশ কিছুক্ষণ। সেইসঙ্গে বুঝানো হয় তাদের ব্যবসা ও তরুণীর চাকরি সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে। বলা হয় মোটা অঙ্কের বেতনের কথাও।

এর মধ্যেই গ্লাসে করে এগিয়ে দেয়া হয় এ্যালকোহল। তরুণী জানিয়ে দেন, তিনি এতে অভ্যস্ত না। অফিস কক্ষে তখন তরুণীর পূর্ব পরিচিত নাদিম পাটোয়ারি ও ফাহিম আহমেদ ফয়েজ। এ্যালকোহলে আপত্তি জানানোর পর এক পর্যায়ে জুস পান করতে দেয়া হয় তাকে। নাদিম ও ফয়েজের অনুরোধের পর জুসের গ্লাস হাতে নেন তরুণী। চুমুক দিতে দিতেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। তারপরই ঘটে ঘটনাটি। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের রুমে। যেখানে ফ্লোরে রয়েছে বিছানা-বালিশ। দরজা বন্ধ করে নাদিম ও ফয়েজ মিলে ধর্ষণ করে তাকে। জুস পানের পর তরুণী অনেকটা নিস্তেজ। সেভাবে বাধা দিতে পারেননি।  ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার দুপুরে। তারপর বুধবার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় ফাহিম আহমেদ ফয়েজকে। জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে ফয়েজ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে অধ্যয়নরত ধানমন্ডির বাসিন্দা  ওই তরুণীর সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিলো নাদিম পাটোয়ারীর। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। চ্যাট, কথা হতো প্রায়ই। দেখা হতো মাঝে-মধ্যে। এরমধ্যেই একটি চাকরির প্রয়োজনীয়তার কথা নাদিমকে জানান তরুণী। নাদিম ও ফয়েজ মিলে ওষুধসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি করতো। কোম্পানী থেকে এসব সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাসপাতালে সাপ্লাই দেয় তারা। শ্যামলীর তিন নম্বর সড়কের বাসাটি এর অফিস হিসেবে ব্যবহার করে নাদিম ও ফয়েজ। সেখানেই ওই তরুণীকে ডেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ফয়েজকে গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক রয়েছে নাদিম। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, নাদিমের পূর্ব পরিচিত এই নির্যাতিতা তরুণী। তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে দুই বন্ধু নির্যাতন করেছে। এ বিষয়ে ফয়েজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাদিমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শ্যামলীর ওই বাড়ির আশপাশের লোকজন জানান, প্রায়ই অচেনা ছেলে-মেয়ে ওই বাসায় আসা-যাওয়া করে। অফিস হওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করেনি কেউ। বুধবার পুলিশের অভিযানের পর থেকেই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ফয়েজকে নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, শ্যামলির ওই বাসাকে তারা প্রমোদালয় হিসেবে  ব্যবহার করতো। মদ ও নারীতে মেতে থাকতো ফয়েজ ও নাদিম। তরুণীর বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও ওই তরুণীকে ওই বাসাতে ডেকেছিলো নাদিম। কিন্তু তিনি যাননি। চাকরির প্রয়োজনেই সেদিন ওই অফিস কাম বাসায় যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ফাহিম আহমেদ ফয়েজ (২৮) নোয়াখালীর কবিরহাটের কালাগাজি চন্দ্রসুখদি গ্রামের মোস্তাফা মিয়ার পুত্র। সে শ্যামলীর তিন নম্বর রোডের ৩৫/১/বি পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটেই থাকতো। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আরেক আসামি নাদিম পাটোয়ারি, মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের বাসিন্দা।- ডেস্ক